নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনার অপসারণের পরেই বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করেছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। আর ওই সরকারে ঠাঁই পেয়েছে হুজি, হিযবুত তাহরীর মতো নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের শীর্ষ নেতা হিসাবে পরিচিত মাহফুজ আলম, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ। আর এবার খোদ তথ্য উপদেষ্টা তথা বাংলাদেশের ‘নব্য রাজাকার’ বাহিনীর নাটের গুরু নাহিদ ইসলামের বাবার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের কলেজের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বদরুল ইসলাম জামিরের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই বাবার কুকীর্তির সুবিচারের জন্য নাহিদের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছেন নেটা নাগরিকরা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নাহিদের বাবা বদরুল ইসলাম জামিরের আসল বাড়ি ঢাকার বাড্ডার বেরাইদ ইউনিয়নে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বদরুলের বাবা-কাকারা রাজাকার বাহিনীতে নাম লিখিয়ে এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের খতম করেছিলেন। পাকিস্তানি খান সেনাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হিন্দুদের বাড়িতে লুটপাট চালানোর পাশাপাশি হিন্দু মেয়েদের ধর্ষণ করে খুনের মতো ন্যক্করজনক ঘটনায় অভিযুক্ত ছিল। স্বাধীনতার পরেই বাঁচতে বেরাইদ ইউনিয়ন থেকে পালিয়ে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় ঘাঁটি গাড়েন বদরুল। পেশায় স্কুল শিক্ষক হলেও একাধিক কুকীর্তির সঙ্গে জড়িত তিনি। স্কুলের ছোট ছোট মেয়েদের শ্লীলতাহানির ভুরিভুরি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
তবে সম্প্রতি এক স্কুল ছাত্রীকে পাশ করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে বদরুলের বিরুদ্ধে। আর ওই খবর জানাজানি হতেই স্কুলের ছাত্ররা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা গুণধর বদরুলকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। শাস্তি হিসাবে চড়-থাপ্পড়ও দেওয়া হয়। প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে গণপ্রহারের হাত থেকে বাঁচতে কুকীর্তির কথা স্বীকার করে নিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিস্তার পান নাহিদের বাবা। ওই ঘটনায় বাড্ডা থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছিল বদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তথ্য উপদেষ্টা হওয়ার পরেই ঢাকার পুলিশ কমিশনার মাইনুল হাসানকে হুমকি দিয়ে বাবার বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় দায়ের হওয়া মামলার নথি নষ্ট করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাহিদের বিরুদ্ধে। বাবার অপকর্ম নিয়ে অবশ্য মুখ খুলতে চাননি কুখ্যাত হুজি নেতা তথা বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।