নিজস্ব প্রতিনিধি: দিনটা ছিল রাখি পূর্ণিমা। ২০২২ সালের ১১ অগস্ট। সেদিনই বীরভূম(Birbhum) জেলার অন্যতম মহকুমা শহর বোলপুরের(Bolpur) নীচুপট্টির বাড়ি থেকে তাঁকে গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই(CBI)। সেই গ্রেফতারির পরে মুখ খুলেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ‘কেষ্ট যতদিন ফিরে না আসছে, লড়াই আরও তিনগুণ বাড়বে। বীরের সম্মান দিয়ে কেষ্টকে জেল থেকে বের করে আনতে হবে। এই মানসিকতা নিয়ে তৈরি থাকুন।’ সেই থেকেই প্রতীক্ষার প্রহর গুণেছে বীরভূম। অবশেষে মঙ্গলবার সকাল ৯টার কিছু আগেই সেই প্রতীক্ষার অবসান হল। কেষ্ট ফিরল ঘরে। সব কিছু ঠিক থাকলে এদিনই ফের একমঞ্চে দেখা যেতে পারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কেষ্ট থুড়ি বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে(Anubrata Mondol)।
আরও পড়ুন, পুজোয় ‘দুয়ারে উপহার’ কর্মসূচি নিয়ে হাজির অভিষেক, বাড়ি বাড়ি যাবে জামাকাপড়
দিন দুই আগেই জামিন পেয়ে গিয়েছিলেন অনুব্রত। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না আসায় জেলের বাইরে পা রাখতে পারেননি। রেখেছেন গতকাল রাতে। মানে সোমবার রাতে। দিল্লির তিহাড় জেলকে বিদায় জানিয়ে তিনি যখন বেড়িয়ে এলেন তখন দেখা গেল তাঁর ভোলটাই বদলে গিয়েছে। চেহারাটা প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। ভারিক্কি ব্যাপারটা নেই। মেয়ের হাত ধরে তিহাড় জেলের দরজা দিয়ে যখন বের হলেন, তখন বাইরে ক্যামেরার ঝলকানি। জেলের কঠোর অনুশাসনে থেকে প্রায় ৩০ কেজি ওজন কমে গিয়েছে তাঁর। রাতের বিমানেই দিল্লি থেকে সকন্যা কেষ্ট রওয়ানা দেন কলকাতার পথে। জেলের বাইরে তো বটেই, দিল্লির বিমানবন্দরেও তাঁকে ঘিরে ধরেছিলেন সাংবাদিকেরা। ছুঁড়ে দিয়েছিলেন অস্বস্তিকর হাজারো প্রশ্ন। কিন্তু কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দেননি দিদির কেষ্ট। কলকাতায় নামেন ভোরের দিকে। সেখানেও সাংবাদিকদের ভিড়। কিন্তু কোনও কথা না বলে মেয়েকে নিয়ে গাড়ি ধরে সড়কপথেই রওয়ানা দেন বোলপুরের পথে। সঙ্গে ছিলেন ঘনিষ্ঠ কিছু নেতাও। দাদা ফিরছে, সেই খবর পেয়ে সকাল থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে বোলপুরের নীচুপট্টিতে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ির সামনে। সময় যতই গড়িয়েছে ভিড়ের বহর ততই বেড়েছে।
আরও পড়ুন, পশ্চিম মেদিনীপুরের বুকে ৪টি নতুন Industrial Park গড়ার পথে রাজ্য সরকার
বর্ধমান পার করে একটি জায়গায় কিছুক্ষণের জন্য থামে অনুব্রতর গাড়ি। সেই সময় গাড়ির কাচ নামিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অনুব্রত। জানান, ‘পায়ে ব্যাথা, কোমরে ব্যাথা। শরীর যদি ভাল থাকে। দিদি ভাল থাকুক, দিদির জন্য আমি আছি, বরাবরই থাকব।’ আউশগ্রাম-ভাতারের শিবদা মোড়ে অনুব্রতর সঙ্গে দেখা করেন আউশগ্রাম-১ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায়-সহ দলীয় কর্মীরা। ‘কেষ্টদা’ তাঁদের জিজ্ঞাসা করেন, “তোরা ভালো আছিস তো?” এর পর গুসকরা নদী পটি এলাকায় মিনিট দেড়েকের জন্য দাঁড়িয়েছিল তাঁদের গাড়ি। গুসকরার তৃণমূল কর্মীরা সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিলেন। তাঁদের দেখে অনুব্রতর মুখে চওড়া হাসি দেখা গেল। সেখান থেকে প্রায় ২৫ টি গাড়ির কনভয় ছিল তাঁর সঙ্গে। সকাল ৯টার আগেই বোলপুরে পা রাখেন অনু্ব্রত মণ্ডল ও তাঁর মেয়ে সুকন্যা। মহিলারা শঙ্খ হাতে, উলু দিয়ে স্বাগত জানান বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতাকে। হাসিমুখে ‘কেষ্টদা’ও তাঁদের সকলের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
আরও পড়ুন, সেমি সেমিকন্ডাক্টর কারাখানার জন্য জমি দিতে প্রস্তুত রাজ্য, বিনিয়োগ হবে ৬০ হাজার কোটি
দুই বছর দুর্গাপুজো অনুব্রত ছিলেন না তাঁর নিজের বাড়িতে। তবে এ বার পুজোর আগেই বোলপুরের বাড়িতে ফিরলেন তিনি। তাঁর ফেরার বার্তা নিশ্চিত হতেই অনুব্রতর বাড়িতে শুরু হয়েছিল রং করার কাজ, ঝাড়পোঁছ, আগাছা সাফাই। ঘটনাচক্রে মমতার এদিন বীরভূম জেলায় প্রশাসনিক কর্মসূচি রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আবহে বীরভূমে প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। সেই বৈঠকে কেষ্ট থাকেন কিনা সেই দিকেই তাকিয়ে এখন তামাম বাংলা। কেষ্ট কোনওদিনই জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। হতে চাননি মন্ত্রীও। কিন্তু সবাই জানে মমতা আর অভিষেকের পরে জেলার প্রথম আর শেষ কথা তিনিই। তাই মমতাও তাঁকে জেলায় কোনও প্রশাসনিক বৈঠক করলে সেখানে মঞ্চের ওপরে তাঁর পাশেই রাখেন কেষ্টকে। এদিনও সেই ছবিই ফিরে আসবে কিনা সেটার জন্যই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকছে সারা বাংলা।