আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজায় বন্দি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে এর আগেও আলোচনায় বসেছে মধ্যস্তাকারী দেশগুলি। হামাস সংগঠন আগেই জানিয়েছিল তাঁরা যুদ্ধ বিরতিতে রাজী। কিন্তু এই নিয়ে তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায় নি ইজরায়েলের তরফে। হামাস জানিয়েছিল যুদ্ধ বিরতির প্রচেষ্টা ব্যহত করতে চাইছে ইজরায়েল। যুদ্ধ বিরতি নিয়ে (মধ্যস্তাকারী দেশগুলিকে)ইজরায়েলকে চাপ দিতে বলেছিল হামাস। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিল ইজরায়েল। এবার নতুন কোনো শর্ত ছাড়াই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে প্রস্তুত রয়েছে হামাস (ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী)।
বুধবার(১২ সেপ্টেম্বর)হামাস জানিয়েছে, কোনো পক্ষের (ইজরায়েল ও হামাস) নতুন শর্ত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী প্রস্তাবের ভিত্তিতে গাজায় ইজরায়েলের সঙ্গে একটি ‘তাৎক্ষণিক’ যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে তারা প্রস্তুত।
হামাস এক বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খলিল আল-হাইয়ার নেতৃত্বে গাজার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার(১২ সেপ্টেম্বর)কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এবং মিশরের গোয়েন্দা প্রধান আব্বাস কামেলসহ তাঁদের সদস্যরা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। সেখানে গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
প্রায় ১১ মাস ধরে চলছে গাজা-ইজরায়েল যুদ্ধ। গত বছেরর ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর থেকেই, গাজায় টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল।এই দীর্ঘ যুদ্ধের শেষ করার জন্য শান্তি আলোচনা বা যুদ্ধ বিরতির কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
ফিলাডেলফি করিডোরের নিয়ন্ত্রণ, মিশরের সঙ্গে গাজার সীমান্তে একটি সংকীর্ণ প্রসারিত জমিসহ বেশ কিছু বিষয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা রয়ে গেছে।সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস গাজা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচক হিসেবে কাজ করছেন।তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন,আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও বিশদে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব আনা হবে।
উল্লেখ্য,চলতি বছরের জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুদ্ধ বিরতির একটি প্রস্তাবটি রেখেছিলেন। তাতে ইজরায়েলি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে তিন-পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি হওয়ার প্রস্তাব ছিল। যদিও এই নিয়ে এখনও কিছু বলে নি ইজরায়েল। তবে দেশটির অন্দরে একাংশের ক্ষোভ রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। কেননা তাঁদের দাবি ছিল গাজায় যুদ্ধবিরতি ও গাজায় বন্দিদের অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।