আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে ভুগছে গাজার শিশু থেকে নারী সকলেই। তারমধ্যে গাজায় ইজরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। গাজার শিশুরা যখন ক্ষিদের তাড়নায় ভুগছে, সেই সময় ইজরায়েলি হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৭৬ জনের। তারমধ্যে ৪২ জন ত্রাণ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, ইজরায়েলের সঙ্গে গাজার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২৭। তারমধ্যে ৮৫ জনই শিশু বলে জানা গিয়েছে। প্রতিদিনই গাজায় হু হু করে বাড়ছে অপুষ্টির সংখ্যা। ত্রাণ দেওয়ার ব্যবস্থা হলেও সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছচ্ছে না। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছেন, গাজার প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতিদিন অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ইজরায়েল শনিবার ঘোষণা করেছে, তারা কিছু সময়ের জন্য মানবিক করিডোর ও বেসামরিক এলাকায় অভিযান বন্ধ রাখতে চলেছে। ত্রাণ সঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। তবে কোথায় কোথায় তা করা হবে সেই বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার অপুষ্টির কারণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানা গিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, যেভাবে হামলা তলছে, ত্রাণে টান পড়েছে, তাতে মৃত্যু বাড়বে। প্রায় ৯০ হাজার মহিলা এবং শিশু দিনের পর দিন না খেয়ে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপদে ত্রাণ দেওয়ার অনুমতি মেলেনি। ইজরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী গাজায় আকাশপথে ত্রাণ পাঠানোর দাবি করেছে। গাজার চিকিৎসক মহলের বার্তা, এই মুহুর্তে পরিস্থিতি অনাহারে গণমৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে।