আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইজরায়েলের একের পর এক আক্রমণে ধ্বংসভূমিতে পরিণত হয়েছে গাজার ভূখণ্ড। ফিলিস্তানির অভিযোগ, ক্রমাগত আক্রমণ ঝাঁঝালো করছে তারা। এই অবস্থায় গাজায় পাঠানো হচ্ছে ত্রাণ। সেই ত্রাণ নিতে গিয়েও ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে মৃত্যু হল প্রায় ৬৭ জন ফিলিস্তিনির। ফিলিস্তানির সশস্ত্র সংগঠন হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইজরায়েল হামলা চালিয়েছে। সেই হামলায় ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা সকলেই ত্রাণ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল।
ইজরায়েল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতার সঙ্গে গুলি চালানো হয়েছে। তবে তাদের মৃত্যুর সংখ্যার সঙ্গে আসল মৃত্যু কত হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
হামাসের পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, গাজার অন্যান্য জায়গায় প্রাণের জন্য অপেক্ষা করছিলেন অনেকেই। গাজার উত্তর অঞ্চলে জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।। পাশাপাশি অন্যান্য জায়গায় ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছিলেন আরো অনেকে। সেখানে প্রায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে আহত হয়েছেন দেড়শজনের বেশি মানুষ। এদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জাতিসংঘ সূত্রে খবর, গাজার সাধারণ মানুষ খিদের তাড়নায় ভুগছেন। জরুরী ভিত্তিতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করার কথা বলা হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস যাতে তাদের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছে যায়, তার জন্য ডাকও দিয়েছে জাতিসংঘ। জানা গিয়েছে, আহত এবং নিহতদের গাজার শিফা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহতদের পরিষেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বেশ কিছু আহতদের আশেপাশের হাসপাতালে ও পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে ২৫ টি ট্রাকের মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। সেই ত্রাণের জন্যই অপেক্ষা করছিলেন বহু গাজাবাসী। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শত শত মানুষ খিদের কারণে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে রয়েছেন। বাজার সাধারণ মানুষ অনাহারে রয়েছেন। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং বস্তু পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত দরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় দুর্ভিক্ষের কারণে ১৮ গাজাবাসীর মৃত্যু হয়েছে।