নিজস্ব প্রতিনিধি : আগামী ৭ সেপ্টেম্বর মহাসমারোহে পালিত হবে গণেশ চতুর্থী। বিশ্বাস করা হয় দশদিন কৈলাস ছেড়ে ভক্তদের ডাকে পৃথিবীতে নেমে আসে বিঘ্নহর্তা। এইসময় পছন্দের প্রিয় সব খাবার নিবেদন করা হয়ে থাকে সিদ্ধিদাতাকে। নিষ্ঠাভরে ভক্তরা আরাধনা করে থাকে। আপনি কী জানেন গণেশজির আরও একটি প্রিয় জিনিসের কথা ? তা হল দূর্বা ঘাস। গণেশের পুজোয় মোদক নিবেদন ও দূর্বা অর্পণের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। জেনে নিন কেন দূর্বা গণশের খুব প্রিয়। কি ছিল সেই অতীতের ঘটনা।
পৌরানিক কাহিনী অনুযায়ী,পুরাকালে অনালসুর নামে এক অসুর বাস করত। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছিল সকল দেবতা। এদিকে দিন দিন অনালসুরের অত্যাচার বেড়েই চলছিল। তখন সমাধানের জন্য পথ খুঁজতে সব দেবতা গণ হাজির হন মহাদেবের সামনে। সকলে অনালসুরের ভয়ে ভীত হয়ে ভগবান শিবের কাছে এসে তাদের দুর্দশার কথা বর্ণনা করেন।
মহাদেব জানান যে, একমাত্র একজনই পারে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে। সে হল গণেশ। এরপর গণেশের সঙ্গে অনালসুরের ভীষণ যুদ্ধ বাঁধে। এই যুদ্ধে গণেশ অনালসুরকে গিলে ফেলে। এতে দেবতারা রক্ষা পায় ঠিক, কিন্তু পেটের জ্বালায় ছটফট করতে থাকে গণেশ। কোন ওষুধেই কাজ হয় না। শেষ অবধি ঋষি কাশ্যপ দূর্বার ২১ টি পিণ্ড তৈরি করে গণেশকে খাওয়ানোর কথা বলেন। তখন দূর্বা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গণেশের পেটের যন্ত্রণা দূর হয়। সেই থেকে দূর্বা গণেশের খুব প্রিয় হয়ে ওঠে।
কীভাবে গণেশকে দূর্বা নিবেদন করবেন : ২২ টি দূর্বাকে একত্র করে ১১ জোড়া দূর্বা প্রস্তুত করা হয়।এই ১১ জোড়া দূর্বা ভগবান গণেশের পায়ে নিবেদন করতে হয়। পুজোর জন্য শুধুমাত্র মন্দিরের বাগানে বা পরিষ্কার জায়গায় জন্মানো দূর্বা নিতে হবে। তবে মনে রাখা ভাল যে দূর্বা ভাল করে পরিস্কার জলে ধুয়ে নিতে হবে।