নিজস্ব প্রতিনিধি : অপেক্ষার প্রহর গোনা শেষ। দেখতে দেখতে চলেই এল বাঙালির প্রাণের দু্র্গা পুজো। প্রত্যেক বছর উমা আসার অপেক্ষায় চাতক পাকির মত চেয়ে থাকে বাঙালিরা। আজ হল চতুর্থী। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত নয়রাত্রি ব্যাপী দেবী দুর্গার নয়টি রূপ শক্তির আরাধনা করা হয়। এটিই হল নবরাত্রি ব্রত। আপনি কি জানেন সপ্তমীর দিন দেবী দু্র্গার কোন রূপের পুজো করলে শত্রুনাশ হয় ? তবে জেনে নিন সপ্তমীর দিন দুর্গতিনাশিনীর কোন রুপের আরাধনা করলে জীবন থেকে বাধা বিপদ কেটে শত্রুনাশ হবে।
দেবী দুর্গার সপ্তম রূপের নাম হল কালরাত্রি।নবরাত্রি ব্রতের সপ্তম দিনে পুজো ও আরাধনা করা হয় দেবী দুর্গার সপ্তম শক্তি দেবী কালরাত্রির।দেবী কালরাত্রীর গায়ের রং গাঢ় অন্ধকারের মতো কালো। মাথার চুল এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে রয়েছে। হাতে রক্ত মাখানো খড়গ। গলায় পরা মালাটি বিদ্যুতের চমকের মতো তীব্র উজ্জ্বল। দেবী প্রতিটি নয়নই ব্রহ্মাণ্ডের মতো গোল। দেখলে মনে হবে সর্বদা বিদ্যুতের আলোর নিঃসৃত হচ্ছে। রক্তবর্ণ মুখ। যেন সব অন্যায় গ্রাস করবে। দেবী কালরাত্রির চারটি হাত। ওপরের ডান হাতে আশীর্বাদ, নীচের ডান হাত হল অভয় মুদ্রা। বাম দিকে ওপরের হাতে থাকে খড়গ এবং নীচের বাম হাতে থাকে লোহার কাঁটা।
আরও পড়ুন : নিয়ম মেনে আজও নীল দুর্গার পুজোয় হয় শত্রু বলি ! জানেন কী কোথায়
দেবী কালরাত্রি ভয়ঙ্কররূপী হলেও তিনি সদা সর্বদা সকলকে শুভ ফল দান করে থাকেন। অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেবী কালরাত্রি।
তাই সপ্তমীর দিনে দেবী কালরাত্রির পুজো করলে শত্রুনাশ হয়। শুধু তাই নয় এই দেবীর স্মরণ করা মাত্র পালিয়ে যায় ভূতপ্রেত, দৈত্যদানব। যতদিন সাধক বা উপাসক বেঁচে থাকেন ততদিন পর্যন্ত দেবী কালরাত্রির করুণায় শত্রুভয়, রাজভয়, অগ্নিভয়, জন্তুভয়, জলভয়, রাত্রিভয় – এসব কিছুই থাকে না।ভক্তদের জীবন থেকে সমস্ত ভয় দূর করেন তাই দেবীকে ভয়ের দেবীও বলা হয়। মনে করা হয়, দুর্গা পুজো সপ্তমী দিনে দেবীর এই রূপের পুজো করলে দৈত্য, দানব, রাক্ষস, ভূত ও প্রেতের মত অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে।
আরও পড়ুন : কোথাও লাল, কোথাও নীল! দেবী দুর্গার গায়ের রং আসলে কী জানেন ?