নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে হিন্দু নিধন যজ্ঞ। একের পর এক জেলায় পুলিশ ও সেনার মদতে হিন্দুদের ঘরবাড়ি লুটপাটের পাশাপাশি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভাঙচুর হচ্ছে মন্দির। দেশ ছাড়ার জন্য হিন্দুদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে শাসানি দেওয়া চলছে। বহু হিন্দু প্রাণ ভয়ে এক কাপড়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার জন্য সীমান্তে জড়ো হয়েছেন। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এবার ওপার বাংলায় থাকা হিন্দুদের ‘রক্ষার’ প্রার্থনায় আয়োজিত হল বিশাল যজ্ঞ। শুক্রবার কামাখ্যা মন্দিরের চত্বরে থাকা নিমত মন্দিরে ওই যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল। গোবর্ধন পীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী আদোক্ষানান্দ মহারাজের পৌরাহিত্যে ওই যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ প্রার্থনা ও যজ্ঞ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন কয়েক হাজার হিন্দু পরিবার। ইদানিংকালে এই ধরনের মহাযজ্ঞ দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ জুড়ে হিন্দু তথা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরে হামলার ঘটনায় মুখ পুড়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের। ড্যামেজ কন্ট্রোলে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে হিন্দু সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান। যদিও তাতে আশ্বস্ত হতে পারেননি বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়। এদিন বাংলাদেশে থাকা হিন্দুদের ‘সুরক্ষা’র জন্য আয়োজিত যজ্ঞ শেষে গোবর্ধন পীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী আদোক্ষানান্দ মহারাজ বলেন, ‘শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাস দিলেই হবে না। বাংলাদেশ সরকার যে সত্যি চায় ওই দেশে হিন্দুরা নিশ্চিন্তে বাস করুন, তাহলে যে সমস্ত মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে, তা সরকারি অর্থে পুনর্নিমাণ করতে হবে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দুদের আর্থিক সাহায্য দিতে হবে।’
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেই বাংলাদেশ জুড়ে যে হিন্দু নিধন যজ্ঞ চলছে তার বিরোধিতা করে গোবর্ধন পীঠের শঙ্করাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশে ইদানিং হিন্দুদের উপরে যে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ওই ঘটনায় শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নন, গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা হিন্দুরা আঘাত পেয়েছেন।’