নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: কথায় বলে, ‘কাক নাকি কাকের মাংস খায় না।’ কিন্তু বাংলাদেশে ভুঁইফোঁড় ও স্বঘোষিত হিন্দু সংগঠনের নেতারা মোটা টাকা ও সুবিধার বিনিময়ে দেশ জুড়ে চলা হিন্দু নির্যাতনে মদত জুগিয়ে চলেছেন। শুধু তাই নয়, বিএনপি ও জামায়েত সন্ত্রাসীদের আড়াল করতে কিছু হয়নি বলে দাবি করেছেন। তাদের মধ্যে যেমন রয়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত তেমনই রয়েছেন হিন্দু মহাজোট নেতা গোবিন্দ প্রামাণিক। গত কয়েকদিন ধরেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হঠানোর পিছনে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের নির্দেশে একাধিক দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের উপরে নির্যাতন হয়নি বলে দাবি করেছেন দুজনে। আর তাতেই চটেছেন বাংলাদেশের নির্যাতিতা হিন্দুরা। তারা দুই পাকিস্তান প্রেমীকে ‘মিরজাফর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। শুক্রবার শাহবাগে হিন্দুদের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে মারধর খেয়ে পালিয়ে গিয়েছেন গোবিন্দ প্রামাণিক।
গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেই গোটা বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর পোড়ানো ও মন্দিরে হামলা। ইতিমধ্যেই বিএনপি-জামায়েত সন্ত্রাসীদের হাতে বাগেরহাট-সহ একাধিক জায়গায় বেশ কয়েকজন হিন্দু নাগরিক নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। হিন্দুদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মদতপুষ্ঠ বিএনপি-জামাত সন্ত্রাসীরা দেশ ছাড়ার নিদান দিয়েছেন।
দেশ জুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে লাগামহীন হামলা হলেও মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে তথাকথিত হিন্দু সংগঠনগুলি। পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু মহাজোট, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পদাধিকারীরা নিজেদের ব্যবসা, চাকরি বাঁচাতে টুঁ শব্দটি করছেন না। আর তাতেই চটেছেন হিন্দুরা। শুক্রবার থেকে কোনও মঞ্চের পতাকা ছাড়াই নির্যাতন বন্ধের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন তাঁরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম-খুলনা থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে বিক্ষোভ, অবস্থান-মিছিল। রবিবার বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও সংখ্যালঘু তথা হিন্দুদের উপরে অত্যাচারের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন, অথচ স্বঘোষিত হিন্দু মহাজোটের সভাপতি তথা আইএসআইয়ের পেড এজেন্ট গোবিন্দ প্রামাণিক দাবি করে চলেছেন, হিন্দুদের উপরে কোনও নির্যাতন হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় মিডিয়া মিথ্যা কথা বলে চলেছে।