নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা সরকারের কৌশল ব্যর্থ হল। ছয় সমন্বয়কারীরা আটকে হুমকির মুখে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের কুখ্যাত গোয়েন্দা বিভাগ। কিন্তু ওই ঘোষণায় বিভ্রান্ত না হয়ে ফের রাজপথে নামার ডাক দিয়েছে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। আজ বুধবার ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ বা ‘বিচারের জন্য পদযাত্রা’র ডাক দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল হাসান মাসউদ জানিয়েছেন, ‘কোটা আন্দোলনে নিহতদের বিচার এবং আটক সমন্বয়কদের নিশর্ত মুক্তির দাবিতে বুধবার সারা দেশের আদালত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও রাজপথে পড়ুয়ারা মিছিল বের করবেন। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকদেরও মিছিলে সামিল হওয়ার অনুরোধ জানানো হছে।’ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নয়া কর্মসূচি ঘিরে ফের অশান্তি বাঁধতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরে গত ১৫ জুলাই থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ ও ছাত্র লীগের গুলিতে ২৬৩ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। আন্দোলন দমাতে গত ১৯ জুলাই থেকে দেশ জুড়ে কার্ফু জারি করেছে হাসিনা সরকার। কার্ফুর পাশাপাশি চলছে ব্যাপক হারে গ্রেফতার। সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা গণ গ্রেফতারের শিকার হচ্ছেন। গত শুক্রবার থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দাদের হাতে পণবন্দি হয়ে রয়েছেন কোটা আন্দোলনের ছয় সমন্বয়কারী।পুলিশি হেফাজতে থেকেই লিখিত বিবৃতিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছেন তাঁরা।
কিন্তু ওই ঘোষণা মানতে নারাজ কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন ছয় সমন্বয়ক। তাই ফের নিজেদের দাবি নিয়ে বুধবার রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহিংসতায় অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণহানি হয়েছে। এমতাবস্থায় আন্দোলন দমনের জন্য সাধারণ ছাত্র ও আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে যেভাবে গণগ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে, সেটা রীতিমতো দেশের সংবিধান বিরোধী ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। গত ১২ দিনে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, রাতের আঁধারে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে কোনো শিক্ষার্থী আছে কি না। এ ছাড়াও মামলা দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।’