নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: একনায়কতন্ত্রী সরকার কী করতে পারে তা হাড়ে-হাড়ে টের পাচ্ছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত পড়ুয়া ও নেতৃত্বরা। গত কয়েক দিন ধরে মিথ্যা মামলায় রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোটা আন্দোলনে জড়িত পড়ুয়াদের গণহারে গ্রেফতারে ঝাঁপিয়েছে শেখ হাসিনার পুলিশ। শুক্রবার ঢাকার এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোটা আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে অমানবিকভাবে তুলে নিয়ে গিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার আধিকারিকরা। দুপুরে সাদা পোশাকে হানা দিয়েই তিন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকেরকে গোপন ডেরায় নিয়ে যায় সরকারি গুন্ডাবাহিনী হিসাবে পরিচিত ডিবি’র সদস্যরা। প্রথমে কোটা আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন শাসকদল আওয়ামী লীগের ‘ক্রীতদাস’ হিসাবে পরিচিত ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন রশীদ। রাতে অবশ্য ডিবি’র অতিরিক্ত উপকমিশনার জুনায়েদ আলম তিন আন্দোলনকারীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গত সপ্তাহেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল রাজধানী ঢাকা-সহ গোটা বাংলাদেশ। পুলিশের চালানো এলোপাথাড়ি গুলিতে রক্তে ভেসে গিয়েছিল ঢাকার রাজপথ। যদিও তাতে কোটা আন্দোনকারীদের থামাতে পারেনি হাসিনা সরকার। শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার রাতে দেশ জুড়ে কার্ফু জারি করে ও সেনা নামিয়ে পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় প্রশাসন। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ যখন তুঙ্গে তখনই রাতের অন্ধকারে একের পর এক কোটা আন্দোলনকারীকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক নির্যাতন চালিয়েছিল পুলিশ ও র্যাব। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও র্যাবের দ্বারা অমানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কোটা আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের। প্রথম দু’জনের অবস্থা যথেষ্টই সঙ্কটজনক ছিল। এদিন দুপুরে হাসপাতালে হানা দিয়ে তিন জনকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় সাদা পোশাকে থাকা ডিবি’র গোয়েন্দারা। আর কোটা আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছে পড়ুয়ারা।