নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: কোটা সংস্কার আন্দোলন যে বাহানা ছিল, মূল্য লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হঠানো তা স্বীকার করে নিলেন মুহাম্মদ ইউনূসের তথ্য উপদেষ্টা তথা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে তিনি স্বীকার করেছেন, শেখ হাসিনাকে হঠাতে সশস্ত্র লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল এবং ৫ অগস্ট সশস্ত্র লড়াইয়ে নামার জন্য দেশবাসীর উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তা রেকর্ড করা হয়েছিল। বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীপন্থী বেশ কযেকজন সাংবাদিকের কাছে ওই ভিডিও বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
জুলাই এবং অগস্টের কোটা সংস্কার আন্দোলন পুর্ব পরিকল্পিত এবং হাসিনাকে উৎখাতের উদ্দেশে সংগঠিত হয়েছিল বলে আওয়ামী লীগের নেতারা প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন। শুধু তাই নয়, আন্দোলন চলাকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যদের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের গুলিতে বহু পুলিশ ও সাধারণ মানুষ নিহতও হয়েছিলেন। বাংলাদেশের সেনা গোয়েন্দা দফতরের (ডিজিএফআই) তরফে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের কাছে পাঠানো রিপোর্টে জানানো হয়, মায়ানমারের আরাকান আর্মি ও ভারতের দুই জঙ্গি সংগঠনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অস্ত্র কিনেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। যদিও পুলিশ ও ছাত্র লীগের ক্যাডার এবং নিরীহ মানুষের উপরে গুলি ছোড়ার কথা বরাবর অস্বীকার করে এসেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
কিন্তু মঙ্গলবার (২৯ আক্টোবর) হাসিনাকে হঠাতে সশস্ত্র লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। কোটা আন্দোলনে নিহত নাসিব হাসান রিয়াদের স্মরণ সভায় তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে ৫ অগস্ট থেকে সশস্ত্র লড়াইয়ের প্রস্তুতি ছিল। সেই মতো আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে অস্ত্রও জোগাড় করেছিলাম। ৫ অগস্ট অর্থাৎ ৩৬ জুলাই আমি একটা ভিডিও করে বের হয়েছিলাম। ভিডিওতে আমি বলেছিলাম যে– আজ যদি কোনও গণহত্যা হয় বা ম্যাসাকার হয়, তাহলে আমাদের সশস্ত্র সংগ্রামের আহ্বান থাকবে। আমরা ফিরে নাও আসতে পারি, আপনারা লড়াই চালিয়ে যাবেন। একটা ভিডিও করে আমি কিছু সাংবাদিককে দিয়ে এসেছিলাম। যদি আজ আমি না ফিরি, আজ আমাদের বিজয় অর্জন না হয়, তাহলে এটাই আমাদের শেষ বার্তা। আমরা প্রত্যেকেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত ছিলাম এবং এখনও আছি। ওই সময় সবাই শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল।’ নাহিদের ওই স্বীকারোক্তি নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আওযামী লীগের তরফে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ষড়যন্ত্রের অপরাধে তথ্য উপদেষ্টাকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি গ্রেপতারেরও দাবি জানানো হয়েছে।