নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। আর ওই জন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার রাতে কার্ফু জারির পরে শনিবার ভোর রাতে বাড়ি থেকে তাঁকে তুলে নিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দারা। আটকের ২৪ ঘন্টা বাঁধে রবিবার ভোরে পূর্বাচলের এক রাস্তা থেকে চোখ বাঁধা অবস্থায় খোঁজ মিলেছে তাঁর। রাস্তা থেকে উদ্ধার করার পরেই এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। আপাতত স্থিতিশীল রয়েছেন নাহিদ।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গত মাসখানেক ধরেই উত্তাল বাংলাদেশ। গত মঙ্গলবার থেকে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। গত চার দিনে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার পড়ুযা। মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হতেই মুখরক্ষায় শুক্রবার রাতে দেশ জুড়ে কার্ফু জারি করে শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে সেনাবাহিনীকেও মোতায়েন করে। আন্দোলন দমাতে বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্রই গুলির নির্দেশও দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করতে কার্ফু জারির কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন সমন্বয়কের সঙ্গে সরকারের তরফে বৈঠকে বসেন শেখ হাসিনার তিন মন্ত্রী। যদিও ওই বৈঠক ভেস্তে যায়। আর তার পরেই ভোর রাতে ঢাকার নন্দীপাড়ার একটি বাড়ি থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের তরফে কিছু বলা হয়নি। নাহিদের বাবা বদিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এদিন ভোরে পূর্বাচলের এক রাস্তায় চোখ বাঁধা অবস্থায় নাহিদকে ফেলে যায় পুলিশ। হেফাজতে নিয়ে ২৪ ঘন্টার বেশি সময় ধরে নাহিদের উপরে গোয়েন্দারা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।