নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের সংবিধানে(Constitution) শিক্ষাকে সকলের অধিকারের(Education for All) তালিকায় রাখা হয়েছে। যার জন্য জেল বন্দী বা সাজাপ্রাপ্ত বন্দীরাও পড়াশোনা করতে চাইলে তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু অদ্ভূত ভাবে সাজাপ্রাপ্ত মাওবাদী নেতা অর্ণব দামের((Maoist Leader Arnab Dam) Ph.D-তে ভর্তি ঠেকাতে(Admission for Ph.D) বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়(Burdwan University) অনির্দিষ্টকালের জন্য ইতিহাসের Ph.D-তে ভর্তি স্থগিত রাখার বিজ্ঞাপন দিয়ে দিল। আর সেই বিজ্ঞপ্তি ঘিরেই এখন ঝড় উঠেছে রাজ্যের শিক্ষামহলে। নবান্নের সূত্রে খবর গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। কেননা তাঁর একান্তিক প্রচেষ্টায় জঙ্গলমহলে(Jungalmahal) শান্তি ফিরেছে। তাঁর সরকারের মানবিক প্যাকেজে সাড়া দিয়ে দলে দলে মাওবাদী কার্যকালাপের সঙ্গে যুক্ত থাকা তরুণ-তরুণীরা অস্ত্র ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসেছে। অর্ণবও এখন সাজা ভোগ করছে। তারপরও যেভাবে তাঁর Ph.D-তে ভর্তি ঠেকাতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় পদক্ষেপ করেছে তা এখন মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টাকেই ধাক্কা দিয়েছে।
২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঝাড়গ্রাম মহকুমার লালগড় ব্লকের শিলদায় ইএফআর ক্যাম্পে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে। সেই হামলার ঘটনায় মৃত্যু হয় ২৩ জন ইএফআর জওয়ানের। ওই মামলায় ২৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। দোষীদের মধ্যে ছিলেন মাওবাদী নেতা অর্ণব দাম ওরফে বিক্রম। আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিল। সেই অর্ণবই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে Ph.D করতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদন গৃহিতও হয়। এদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার ছিল তাঁর ভর্তির দিন। কিন্তু ঠিক তার আগের দিন সন্ধ্যায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় ইতিহাসের পিএইচডিতে ভর্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হল। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ইতিহাসের Ph.D’র জন্য Merit-based Counseling হচ্ছে না। কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘Unavoidable Circumstances’।
আর এখানেই প্রশ্ন রাজ্যের শিক্ষামহলের! ‘Unavoidable Circumstances’ বলতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন? তাঁরা কী মনে করেন কোনও মাওবাদী নেতার শিক্ষার কোনও অধিকার নেই? নাকি তাঁরা এটা মনে করেন, কোনও সাজাপ্রাপ্ত জেলবন্দীর শিক্ষার কোনও অধিকার নেই? রাজ্যের শিক্ষামহলের একটা বড় অংশের দাবি, যেহেতু Ph.D’র জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষায় ২৫০ জনের মধ্যে প্রথম হয়েছেন অর্ণব তাই মেধার ভিত্তিতে তিনিই অগ্রাধিকার পাবেন সেখানে ভর্তির ক্ষেত্রে। কিন্তু সেটা ঠেকিয়ে অন্য কাউকে ঘুরপথে সুযোগ করে দিতে এই পন্থা নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর সেখানেই তাঁরা জানিয়েছেন Merit-based Counseling হচ্ছে না।
নবান্নের সূত্রের খবর গোটা বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী জানতে পারেন সোমবার রাতে। তিনি এই ঘটনায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ। কেননা তিনি যেভাবে জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন তা দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। মাওবাদের রাস্তা ছেড়ে জঙ্গলমহলের বিপথগামী তরুণ প্রজন্ম মমতার সরকারের ওপর আস্থা রেখে অস্ত্র ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসেছে। অর্ণবও জেলে থেকেও সমাজের মূল স্রোতে ফেরার চেষ্টা করছে। সেখানে তাঁকে Ph.D’র জন্য ভর্তি না হতে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টাকেই ধাক্কা বলে অনেকেই মনে করছেন। সূত্রের দাবি, রাতেই এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নাকি কথা বলেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে। তিনি তাঁকে বিষয়টি দেখতে বলেছেন বলেই সূত্রে জানা গিয়েছে।