নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রযুক্তির উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি। আর ভারতের নাম সেখানে যথেষ্ট উজ্জ্বল। এমতাবস্থায় গুগলের পরে এবার স্যামসাংও পরিকল্পনা করছে তাদের স্মার্টফোন ও ইলেকট্রনিক পণ্যের উৎপাদন ধীরে ধীরে ভিয়েতনাম থেকে ভারতে স্থানান্তর করার। এর পিছনে বড় কারণ হতে পারে সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক (Tariffs), যা ভিয়েতনাম থেকে রফতানির ক্ষেত্রে সংস্থার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোরিয়ান ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট স্যামসাং ইতিমধ্যেই ভারতের কিছু বড় সংস্থা যেমন Dixon Technologies ও Bhagwati Products (Micromax)-এর সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য—ভিয়েতনামে যেসব উৎপাদন চলছে, তার কিছুটা ভারতে স্থানান্তর করা যায় কি না, তা বোঝা। স্যামসাং-সহ অন্য অনেক সংস্থা যারা বর্তমানে ভিয়েতনামে পণ্য উৎপাদন করছে তারা ভারতের দিকে ঝুঁকছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় EMS (Electronic Manufacturing Services) সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্যামসাং বর্তমানে ভিয়েতনাম-কে তাদের প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে, কিন্তু সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য টানাপোড়েন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রফতানি ঝুঁকি তাদের ভারতকে বিকল্প হিসেবে ভাবতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে, মার্কিন মুলুক হচ্ছে স্যামসাং-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার, তাই রফতানি সহজ করতে তারা ভারতের দিকে নজর দিচ্ছে।
শুধু স্যামসাং নয়, এর আগেই খবর এসেছে গুগলও তাদের স্মার্টফোন উৎপাদন ভিয়েতনাম থেকে ভারতে সরানোর কথা ভাবছে। এর কারণও এক। ট্রাম্পের সম্ভাব্য শুল্কনীতির কারণে স্মার্টফোনের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা।বর্তমানে ভারতে তৈরি হওয়া Google Pixel স্মার্টফোনগুলো মূলত দেশের বাজারের জন্যই বরাদ্দ, যেখানে আমদানি শুল্ক আছে প্রায় ১৬.৫%। Google Pixel ফোন Dixon উৎপাদন করে নয়ডাতে এবং Foxconn তৈরি করে তামিলনাড়ু-তে। এখানে Dixon মূলত নতুন মডেলগুলো তৈরি করে, আর Foxconn পুরোনো মডেলগুলো।
বর্তমানে ভারতে তৈরি হওয়া Pixel-এর ৭০% এর বেশি আসে Dixon-এর হাত ধরে। Foxconn ভারতে তাদের উৎপাদন শুরু করেছিল ২০২৩ সালের আগস্টে, সবার আগে। সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, ভারত ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠছে, যেখানে স্যামসাং ও গুগলের মতো বড় সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে কারখানা তৈরির কথা ভাবছে। এতে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, তেমনি ভারতের প্রযুক্তি শিল্পেরও নতুন দিগন্ত খুলবে।