নিজস্ব প্রতিনিধিঃ– পূর্বঘোষণা অনুযায়ী নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনে ডায়মন্ড হারবারে শুরু হল ‘সেবাশ্রয়’। ডায়মন্ড হারবারের এসডিও মাঠে প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভায় সকলের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যশিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। শিবির শুরু হল ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা এলাকা থেকে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নটা নাগাদ এসডিও মাঠে পৌঁছে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে উত্তরীয় ও দেবী সরস্বতীর মূর্তি হাতে তুলে দিয়ে বরণ করে নেন জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বরা। এরপর প্রকল্পের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সাংসদ। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যশিবিরের ভিতরের পুরো অংশটাই নিজে ঘুরে দেখেন তিনি। কী কী ধরনের চিকিৎসা হবে এখানে। শুধু তাই নয়, রীতিমতো গোটা বিষয়টি নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করেন। কখন, কোন চিকিৎসক বসবেন, কীভাবে রোগীদের চিকিৎসা করা হবে, স্বাস্থ্যশিবিরের কোন অংশের কী কাজ, তাও খুঁটিয়ে জেনে নেন অভিষেক। সাংসদের উদ্যোগে ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্যশিবিরগুলিতে থাকছে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, পরীক্ষা নিরীক্ষা, রেফারেল পরিষেবা, হেল্পডেস্ক ও অ্যাপভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন ও রিয়েল টাইম আপডেট। আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই স্বাস্থ্যশিবিরগুলি চালু থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে আমতলায় অডিটোরিয়ামে চিকিৎসকদের সঙ্গে ‘সমন্বয়’ নামে একটি বৈঠক করেন অভিষেক। সেই সভা থেকেই নিজের সংসদীয় এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা জন্য কর্মসূচির ঘোষণা করেন তিনি। জানা গিয়েছে দশ দিনের মধ্যে এই কর্মসূচিতে সাতদিন শিবির পরিচালনায় থাকবেন জেনারেল মেডিসিনের চিকিৎসকেরা। এক এক দিন বিধানসভাভিত্তিক ৪০টি শিবির করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরের তিনদিন সুপার স্পেশালিটি বিভাগের চিকিৎসকেরা থাকবেন। রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি পোর্টেবল ইসিজিও করা যাবে শিবিরে। রক্তের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষার সঙ্গে ডেঙ্গি পরীক্ষারও সুবিধা মিলবে।
পরীক্ষায় রোগ ধরা পড়লে তৎক্ষণাৎ তা নির্ণয়ও করা হবে। শুধু বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষাই নয়। বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হবে শিবির থেকেই। তার জন্য অ্যাপ ভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তারপর মিলবে রিয়েল টাইম আপডেট। তার জন্য জরুরি হেল্প ডেস্কও থাকবে। এই কর্মসূচি চলবে ৭৫ দিন ধরে। যার জন্য আটশোরও বেশি চিকিৎসক যোগ দেবেন শিবিরে। প্রতি শিবিরে অন্তত দু’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন। সঙ্কটজনক রোগীদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রেফারেল সিস্টেমে ১২টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে জানা গিয়েছে।