নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা হাইকোর্টে(Calcutta High Court) বড় জয়ের মুখ দেখল রাজ্য সরকার। এদিন অর্থাৎ বুধবার ২৮ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের উচ্চপ্রাথমিকে(Upper Primary) ১৪ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের(School Teacher Recruitment) ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দিয়ে দিল। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ৪ সপ্তাহের মধ্যে পর্ষদকে মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হবে। ২০১৪ সালের আপার প্রাইমারি শূন্যপদ নিয়োগ নিয়ে বুধবার চূড়ান্ত রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায় দিয়েছে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত এদিন জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে ১৪ হাজার ৫২ জনের মেধা তালিকা(Merit List) প্রকাশ করতে হবে। পরের ৪ সপ্তাহের মধ্যে কাউন্সিলিং প্রক্রিয়া(Counselling Process) শুরু করতে হবে। চূড়ান্ত মেধা তালিকায় ১৪০৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। অভিযোগ, এই ১৪০৫ জনকে মেধা তালিকা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন, ‘আমরা শান্তি চাই, বিচার চাই, ওদের ডেডবডি চাই’, বিজেপিকে বিঁধলেন মমতা
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে আপার প্রাইমারির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। মোট শূন্যপদের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৩৩৯টি। ২০১৯ সালে ভেরিফিকেশন হয় এবং সে সময় ১৩ হাজার ৩৩৩ জনের মেধাতলিকা তৈরি হয়। তাদের মধ্যে ৮ হাজার ৯০০ জন চাকরিপ্রার্থীকে কাউনসেলিংয়ের পর প্যানেলভুক্ত করা হয়। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই বিস্তর অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, ফর্ম ফিলাপ করেনি এমন প্রার্থীদেরও ইন্টারভিউতে ডাকা হযেছিল। অভিযোগ, টেটের নম্বর বাড়িয়ে তাদের ইন্টারভিউতে ডাকা হয়েছিল এবং কারচুপি ধামাচাপা দিতে প্রকাশিত তালিকায় কে কত নম্বর পেয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়নি। এই অভিযোগেই কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল মামলা। ওই মামলায় ২০২০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য পুরো তালিকা বাতিলের নির্দেশ দেন। নতুন করে ভেরিফিকেশন করার পাশাপাশি নির্দেশে এও বলা হয় নম্বর বিভাজন করে নতুন করে তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
আরও পড়ুন, ‘শুরু তুমি করেছ, শেষ আমরা করব’, বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অভিষেকের
পরবর্তীকালে ওই মামলা গড়ায় বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেয় তাঁর বেঞ্চ। তবে ভেরিফিকেশন চালু রাখতে বলা হয়। এরপরই ১ হাজার ৪৪৩ জন প্রার্থীর ভুল ধরা পরে। ওই মামলায় ২০২৩ সালে বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিসন বেঞ্চে ফের মামলা হয় যে যোগ্যরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, যে নিয়োগ তালিকা বন্ধ থাকবে তবে কাউনসেলিং এর কাজ চালাতে পারবে এসএসসি। পরবর্তীতে ওই মামলা বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে যায়। এদিন ওই মামলার চূড়ান্ত রায়দান প্রকাশ করল বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। এদিন রায় প্রকাশের পরে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জোর গলায় দাবি করেন, পুজোর আগেই হাতে জয়েনিং লেটার পেয়ে যাবেন দীর্ঘ ৯ বছর ধরে মামলা করা পরীক্ষার্থীরা।