নিজস্ব প্রতিনিধি: লোকালয়ে কারখানা গড়ে ওঠার কথাই নয়। নিয়মও না। কিন্তু গড়ে উঠেছে। এবার সেই কারখানার শব্দে রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বার বার কারখানার মালিককে বলেও সেই শব্দ বন্ধ করানো যায়নি। কারখানার মালিকও কারখানা বন্ধ করেননি। আর তাই গ্রামের লোকেরাই বাধ্য হয়েছেন মামলা ঠুকতে কলকাতা হাইকোর্টে(Calcutta High Court)। সেই মামলায় হাইকোর্ট জানিয়ে দিল আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওই কারখানাকে লোকালয়ের বাইরে নিয়ে চলে যেতে হবে। যে কারখানা ঘিরে এই মামলা তার অবস্থান মুর্শিদাবাদ জেলার(Murshidabad District) জঙ্গিপুর মহকুমার(Jangipur Sub Division) সামসেরগঞ্জ(Samserganj) থানা ভাসাইপাইকর গ্রামে। তবে কারখানা মালিক আদালতের রায়ের জেরে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে এখন কারখানা বন্ধ করে দেওয়া ব্যতীত দ্বিতীয় কোনও রাস্তা খোলা নেই। কেননা ১৫ দিনের মধ্যে জমি কিনে নতুন কারখানা গড়ে তোলার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর নেই।
জানা গিয়েছে, ১৯৬৪ সালে ফারাক্কা ব্যারেজ তৈরির প্রকল্পের জন্য সামসেরগঞ্জ থানা এলাকায় একাধিক জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। যার মধ্যে মহব্বতপুর গ্রামের মানুষদেরও জমি অধিগ্রহণ করেছিল সরকার। পরে জমিহারাদের সরকারের তরফে ভাসাইপাইকর গ্রামে জায়গা দেওয়া হয়। মূলত জমিহারাদের পুনর্বাসনের জন্যই বিকল্প জায়গা দিয়েছিল সরকার। এরপরে সেখানে বাড়ি বানিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন জমিহারা মানুষজন। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে পাওয়া জমিতে বসত বাড়ি না বানিয়ে সেখানে একটি বাসন তৈরির কারখানা(Steel Dish Making Factory) করেন এক বাসিন্দা। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। কারণ বাসন তৈরির জন্য সারারাত ধরে কাজ চলে কারখানায়। আর সেখানে আর থালা বাসন, ইস্পাতের ব্যাপক শব্দ হয়। এভাবে কারখানার শব্দে রাতে শান্তিতে ঘুমোতে পারছেন না সেখানকার বাসিন্দারা। এই অবস্থায় জীবনে শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জিয়াউল শেখ সহ গ্রামের একাধিক বাসিন্দা।
প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা চলে। পরে ডিভিশন বেঞ্চে যায় মামলাটি। মামলাকারীদের অভিযোগ, এই ইস্পাত কারখানার শব্দে শুধুমাত্র যে তাদের রাতে ঘুম হচ্ছে না তাই নয়, কারখানা থেকে রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ নির্গত হয়ে পরিবেশ ব্যাপকভাবে দূষিত করছে। এমনকী স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। সেই মামলাতে এদিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ১৫ দিনের মধ্যে কারখানাটি লোকালয় থেকে অন্যত্র সরাতে হবে। যদিও কারখানা মালিক এখন কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার পথেই হাঁটতে চাইছেন।