নিজস্ব প্রতিনিধি: দু’বছর জেলবন্দি থাকার পর দুর্গাপুজোর আগে বোলপুর ফিরেছেন বীরভূম(Birbhum) জেলা তৃণমূলের(TMC) সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল(Anubrata Mondol)। কিন্তু তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তৃণমূলের কোর কমিটির(Core Committee) কোনও বৈঠক হয়নি। এমনকী, দলের বিজয়া সম্মিলনিতেও অনুব্রতর মঞ্চে দেখা যায়নি তাঁর বিরোধী বলে পরিচিত কোর কমিটির অন্যতম সদস্য কাজল শেখকে। ফলে, দল পরিচালনা নিয়ে জেলা নেতৃত্বের সমন্বয়ের অভাব সামনে আসতেই দ্রুত কোর কমিটির বৈঠক ডাকার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতির ওপরেও দলনেত্রী সহ শীর্ষ নেতৃত্বের নজর রয়েছে। এমতাবস্থায় অনুব্রত মণ্ডল থুড়ি কেষ্ট’র সঙ্গে কোর কমিটির বৈঠকে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Abhishek Banerjee) এক প্রতিনিধি। এমনটাই জানিয়েছেন কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী। তবে, এখনও বৈঠকের তারিখ ঠিক হয়নি।
আরও পড়ুন, চোখের অপারেশনের পরে চলতি সপ্তাহ থেকেই ফের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু অভিষেকের
গোরু পাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার আগে পর্যন্ত বীরভূম জেলা তৃণমূলে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল অনুব্রত মণ্ডলের। তাঁর নির্দেশই ছিল শেষ কথা। কিন্তু তাঁর জেলবন্দি হওয়ার পর জেলা কে চালাবেন, এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে রাজ্য নেতৃত্ব। এমতাবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বীরভূমের দায়িত্ব নেন। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের নেতাদের নিয়ে তৈরি করেন কোর কমিটি। সেই কোর কমিটিই জেলায় দলের নির্বাচনী কৌশল থেকে প্রচার সামলেছিল ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে। জেলার ৫২টি জেলা পরিষদের মধ্যে ৫১টিতে এবং ১৯টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ১৯টিতঙ্গি বিপুল ভোটে জয় পায় তৃণমূল। এছাড়াও জেলার ১৬৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১৪২টি দখল করে তৃণমূল। কার্যত সেই নির্বাচনেই পরিষ্কার হয়ে যায়, কেষ্টকে ছাড়াও দল চলতে পারবে। এরপর লোকসভা নির্বাচন আসতেই কালিঘাটে বীরভূম নেতৃত্বকে নিয়ে একটি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে দুই সাংসদকে নির্বাচনী প্রচারে মনোযোগ দেওয়ার জন্য কোর কমিটি থেকে তিনি সরিয়ে দেন। কোর কমিটির সদস্যদের মধ্যে ১৪টি বিধানসভায় কাজ করার দায়িত্ব বণ্টন করেন। তাতে ফলও মেলে হাতেনাতে। ২০১৯ সালের তুলনায় কোর কমিটির নেতৃত্বে ২০২৪ সালে মার্জিন আরও বাড়ে।
আরও পড়ুন, আগামিকাল থেকে আবাসের সুপার চেকিং শুরু, থাকবেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা
লোকসভা নির্বাচনে ফল প্রকাশের পর সারা রাজ্যে নবনির্বাচিত সংসদ ও জেলা নেতৃত্বকে কালীঘাটের অফিসে ডেকে পাঠান দলনেত্রী। বীরভূম জেলার কোর কমিটিও সেই বৈঠকে ডাক পায়। সেখানে বীরভূম জেলার কোর কমিটির সদস্যদের নিজেদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন দলনেত্রী। অনুব্রতর অনুপস্থিতিতে এ যাবৎ সেভাবেই কাজ করে এসেছে কোর কমিটি। কিন্তু তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই কোর কমিটি নিয়ে জেলা নেতৃত্বে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। কোর কমিটিকে এড়িয়ে বিজয়া সম্মিলনির তারিখ নির্ধারণ করেন খোদ জেলা সভাপতি। এতেই তরজা শুরু হয়। ফলে, কোনও সম্মিলনিতেই অনুব্রত-কাজলকে একসঙ্গে দেখা যায়নি। এই খবর রাজ্যের কানে যেতেই নড়েচড়ে বসে শীর্ষ নেতৃত্ব। সঙ্গে সঙ্গে জেলা সভাপতি ও কোর কমিটিরকে ডেকে বৈঠক ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয় কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীকে। আর সেই বৈঠকে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধি। স্বভাবতই ওই বৈঠকে অনুব্রত মণ্ডলের ভূমিকা কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক কারবারিদের।