নিজস্ব প্রতিনিধি : নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে যোগ্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, চাকরি যাবে না যোগ্যদের। নোটিশ না পাওয়া পর্যন্ত স্কুলে যাওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়েও স্বস্তি পাননি চাকরিহারাদের মধ্যে একাংশ।
চাকরিহারাদের মধ্যে সিংহভাগই স্কুল ফিরতে চেয়েছেন। কেউ কেউ চেয়েছেন আন্দোলন জারি রাখতে। আবার কেউ কেউ চেয়েছেন পুরোনো চাকরিতে ফিরে যেতে। স্কুলে ফেরার তালিকায় রয়েছেন সবং ব্লকের মোহাড় ব্রহ্মময়ী হাইস্কুলের নবম-দশম শ্রেণির বাংলার শিক্ষক অজয় মাঝি। তার আরেকটি পরিচয় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা ব্লকের জলচকের অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। কিন্তু সবথেকে বড় বিষয়, টেন্ডেড তথা অযোগ্যের তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরে মঙ্গলবার তিনি স্কুলে যাচ্ছেন।
তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি স্কুলে যেতে চান। ছাত্রছাত্রীরা তারজন্য অধীরভাবে অপেক্ষায় রয়েছে। জানা গিয়েছে, সবং ব্লকের মোহাড় ব্রহ্মময়ী হাইস্কুলে অজয়-সহ মোট ৬ জন শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন সুপ্রিম নির্দেশে।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীর সভা থেকে ফেরার পরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চাকরিহারা শিক্ষকদের মধ্যে তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একদল শিক্ষক স্কুলে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা পড়ুয়াদের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করতে চান। আর এক দল জানিয়েছেন, তাঁরা স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত স্কুলে যাবেন না। প্রয়োজনে আন্দোলনে নামবেন। আবার কেউ কেউ ফিরে যেতে চাইছেন আগের কর্মস্থলে।
সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন, জীবন থাকতে কোনও যোগ্যের চাকরি যেতে দেবেন না। কারা অযোগ্য, তাঁদের কেন অযোগ্য বলা হচ্ছে, আদৌ তাঁরা অযোগ্য কি না, তা-ও যে রাজ্য সরকার খতিয়ে দেখবে, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল সরকারের উপর চাপ তৈরি হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।