নিজস্ব প্রতিনিধি: বছর ২ আগে Online-এ খাজনা জমা দেওয়ার(Land Revenue through Online) পরিষেবা চালু করেছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) সরকার। সেই কাজে স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করতে বর্তমানে শুধুমাত্র Online-এ খাজনা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। নাগরিকরা Computer বা Smart Phone ব্যবহার করে ঘরে বসেই খাজনা জমা দিতে পারেন। সেই প্রক্রিয়া এবার আরও সহজ ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করে তোলা হচ্ছে। এতদিন Online-এ খাজনা দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকের E-mail ID থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। খাজনা জমা নেওয়ার আগে সেই E-mail ID-তে OTP পাঠিয়ে যাচাই করা হতো। একই সঙ্গে জমির মালিকের মোবাইল ফোনেও পাঠানো হতো পৃথক একটি OTP। কিন্তু নাগরিকদের একটা বড় অংশ E-mail ব্যবহারে সড়গড় বা সক্ষম নয়। তাই E-mail-এ OTP পাঠানোর নিয়ম তুলে দিল রাজ্য। শুধুমাত্র খাজনা জমা দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তির মোবাইল ফোনেই এবার থেকে OTP পাঠিয়ে যাচাই পর্ব সারা হবে।
২০১৭ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষিকাজে ব্যবহৃত জমির জন্য খাজনা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে কৃষিজমির জন্য সেস এবং খাজনা— কোনওটাই নেওয়া হয় না। তবে কৃষিকাজ ছাড়া অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়, এমন জমির খাজনা দিতে হয় বছর বছর। সেই খাজনা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে Online পরিষেবা চালু করেছে রাজ্য সরকার। মূলত দালাল চক্র ভাঙতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। Online পরিষেবা চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষকে এখন আর অফিসে ছুটতে হচ্ছে না এর জন্য। বাড়িতে বসেই খাজনা জমা দেওয়া যায়। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ প্রায় ৫৮ কোটি টাকা খাজনা জমা করেছেন এভাবেই। ভূমি ও ভূমিসংস্কার দফতরের পোর্টালে ঢুকে নির্দিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক করলেই Online-এ খাজনা জমা দেওয়া যায়। সেখানে জমির মালিকের নাম, বাবার নাম, ঠিকানার পাশাপাশি ফোন নম্বরও দিতে হয়। সঙ্গে সঙ্গে ফোনে OTP পাঠিয়ে যাচাই পর্ব সেরে নেওয়া হয়। তারপর নির্দিষ্ট খতিয়ান নম্বরের অধীনে থাকা সংশ্লিষ্ট দাগ নম্বর বেছে নিলে কত টাকার খাজনা বকেয়া রয়েছে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। অনলাইনেই টাকা মিটিয়ে দেওয়া যায়।
আরও পড়ুন, সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার ৪
রাজ্যের ভূমি ও ভূমিসংস্কার দফতরের আধিকারিকদের দাবি, যেটা এখন পরিবর্তন করা হয়েছে সেটা হল Double Verification’র জায়গায় Single Verification চালু করা হয়েছে। এতদিন Online-এ জমির খাজনা দেওয়ার ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বরে আসা OTP’র পাশাপাশি মেলে আসা OTP-ও জানাতে হতো। কিন্তু এখন মেলে আসা OTP’র দরকার পড়বে না বলে জানানো হয়েছে। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রাজস্ব দিতে আসা ব্যক্তির নিজস্ব E-mail ID নেই। আবার E-mail ID থাকলেও তাতে OTP আসতে সমস্যা হচ্ছে। যার জন্য রাজস্ব জমা করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে জামির মালিকদের। সেই কারণেই এই Double Verification পদ্ধতি তুলে দিয়ে Single Verification চালু করা হয়েছে। এতে এরপর থেকে জমির খাজনা দেওয়ার সময় শুধু Mobile নম্বরেই OTP আসবে। E-mail ID থাকলেও সেখানে আর কোনও OTP যাবে না। এই Single Verification’র ফলে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়াও দ্রুত হবে। অবাস্তু, অকৃষি, বাণিজ্যিক কাজের জন্য জমির রাজস্ব দেওয়ার ব্যাপারে এই ব্যবস্থা চালু থাকবে।