নিজস্ব প্রতিনিধি, কোতুলপুর : ৩০ বছর আগে স্ত্রীকে খুন করে জেলে গিয়েছিলেন। যাবজ্জীবন সাজা হলেও ১৫ বছর আগে ফিরে এসেছিলেন বছর ৫৫-র প্রৌঢ়। কিন্তু পরিবারের লোক তাকে সঙ্গে রাখতে চায়নি। প্রথমে গ্রাম ভীমাহারের ধারে ও পরে সরিষাদিঘি এলাকায় তাঁবু খাটিয়েই থাকতেন ওই বৃদ্ধ।সেই তাঁবু থেকেই উদ্ধার হয়েছে ওই বৃদ্ধের পচাগলা দেহ। এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।
জানা গিয়েছে, প্রতিবেশীরা কয়েকদিন ধরে পচা গন্ধ পাচ্ছিলেন। গন্ধের উৎসের খোঁজ করে জানা যায় ওই তাঁবু থেকে আসছে গন্ধ। তাঁবুতে ঢুঁকতেই গুলিয়ে উঠল গা। শিউরে ওঠেন সকলেই। পচাগলা অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরেই স্থানীয়রাই খবর হেয় কোতুলপুর থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তাঁরা গিয়ে প্রথমে দেহ উদ্ধার করে। দেহটি ময়নাতদন্ত করার জন্য পাঠানো হয় বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে।
সূত্রের খবর, বৃদ্ধের বাড়ি ভিমাহার গ্রামে। কিন্তু স্ত্রীকে খুন করায় পরিবারের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সাজা কাটিয়ে বাড়ি ফিরলেও, পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাড়িতে রাখতে চাননি। তাই প্রথমে নিজের গ্রামের কাছে এবং পরে সাগরদিঘি এলাকায় তাঁবু বানিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন। রবিবার ওই তাঁবু থেকে পচা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। প্রতিবেশীরা তাঁবুতে দেখে ওই ব্যক্তি পড়ে রয়েছেন। তাঁরাই দ্রুত খবর দেয় পুলিশে। ওই ব্যক্তির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
কোতুলপুর থানার পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, কবে শেষ ওই বৃদ্ধকে দেখা গিয়েছিল। তাঁর সঙ্গে এর মধ্যে আর কাউকে দেখা গিয়েছে কিনা তা জানতে তদন্ত চলছে। গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।