নিজস্ব প্রতিনিধি: নারী কন্ঠে যে কোনও মানুষকেই বোকা বানানো যায়। আর এই বিষয়কে অস্ত্র বানিয়েই অনেকে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করে নেন। এমনই এক যুবক তাঁর ফেসবুকে পটলচেরা চোখ, টোল পড়া গালের সুন্দরী মেয়ের রিকোয়েস্ট এড়াতে পারেননি। ফেসবুকের মাধ্যমেই প্রথম কথা হয় যুবকের একটি মহিলার সঙ্গে। তার পর কথার ফাঁকে নিজেদের ফোন নম্বর আদান-প্রদান হয়ে। পরে জানা যায় সেটি একটি পুরুষ। ওই অভিযুক্ত ফোন নম্বর হাতিয়ে মহিলাদের কণ্ঠস্বর নকল করে প্রেমের জালে ফাঁসান! শুধু তাই নয়, তাঁদের সম্পর্ককে বৈবাহিক রূপ দেওয়ার প্রস্তাবও ওই যুবক প্রত্যাখ্যান করতে পারেননি।
সেই রূপবতী নারীর ছবির পিছনে যে লুকিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে লক্ষাধিক টাকা খোয়ালেন নিমতার ওই যুবক। অভিযোগ পেয়ে শিলিগুড়ি থেকে অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেফতার করেছে নিমতা থানার পুলিশ।
ধৃতের নাম শুভদীপ রাহা। বাড়ি শিলিগুড়ি থানার ১ নম্বর ডাবগ্রাম রবীন্দ্র সরণিতে। নিমতা দক্ষিণ প্রতাপগড়ের বাসিন্দা সৌমিত নন্দী সম্প্রতি নিমতা থানায় প্রতারণার অভিযোগ করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে শুভদীপকে রবিবার রাতে তার বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার তাকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক অভিযুক্তকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
কীভাবে করতেন এই প্রতারণা, সেটাই জানা গিয়েছে পুলিশের তরফ থেকে।
বছর দেড়েক আগে সৌমিতের ফেসবুকে সুন্দরী এক তরুণীর ছবি দেওয়া একটি প্রোফাইল থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসে। ফেসবুক অ্যাকাউন্টটিও ছিল তনুশ্রী মুখোপাধ্যায় নামে একটি মেয়ের নামে। সুন্দরী মেয়ে ভেবে তার রিকোয়েস্ট এড়াতে পারেননি সৌমিত। শুরু হয় দু’জনের মধ্যে কথা চালাচালি দিয়ে।
ফোন নম্বর আদানপ্রদানও হয়। নারীর কণ্ঠস্বর করে শুভদীপ সৌমিতের সঙ্গে প্রেম জমিয়ে তা বিয়েতে রূপান্তরিত করার প্রস্তাবও দেয়। শুধু তাই নয়, শুভদীপ তিন চার রকম গলায় কথা বলে কখনও মেয়ের মা, কখনও মেয়ের দাদা, আত্মীয় বলেও কথা বলে। যাতে কিছুতেই উল্টোদিকে থাকা যুবকের সন্দেহ না হয় ওই লাস্যময়ীর পিছনে কোনও পুরুষ রয়েছে।
তবে বিয়ের প্রস্তাব পর্যন্ত গড়ালেও দু’জনের কখনও সামনাসামনি দেখা হয়নি। সৌমিতের তরফে একাধিকবার দেখা করার প্রস্তাব গেলেও প্রতিবারই পরে কোনওদিন দেখা করার আশ্বাস দেয় রহস্যময়ী ওই তরুণী। সৌমিত ফাঁদে পা দিয়েছেন বুঝতে পেরে এর পর শুভদীপ মায়ের শরীর খারাপের কথা বলে তাঁর থেকে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে তিনি নিমতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে অভিযুক্তের ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে নিমতা থানার এসআই অভিজিৎ মোদকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম হানা দেয় শিলিগুড়িতে। গ্রেফতার করা হয় শুভদীপকে। তার থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ফোন ও দু’টি সিম কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবুক এবং এটিএম কার্ড।
ধৃতকে জেরা করে বালুরঘাটের বাসিন্দা দিবাকর দাস নামে আরও এক প্রতারিতের হদিস পেয়েছে পুলিশ। যার থেকে একইভাবে দফায় দফায় ১৭ লক্ষ টাকা হাতিয়েছে শুভদীপ। আর কারা কারা তার দ্বারা প্রতারিত হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে কোনও চক্রের যোগ রয়েছে কিনা তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।