নিজস্ব প্রতিনিধি: পিছু হঠল না বাংলা(Bengal)। পিছু হঠছে কেন্দ্র। পিছু হঠলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। পিছু হঠল Modi 3 সরকার। রং-বিধি মানতে না চাওয়ায় কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির(Narendra Modi) সরকার আটকে দিয়েছিল বাংলার ভাগের জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের(National Health Mission) টাকা। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পরে এবার নিজেরাই অবস্থান বদল করতে বাধ্য হল কেন্দ্র সরকার। রং-বিধি নিয়ে অনড় অবস্থান ধরে না-রাখার পথে হাঁটা দিচ্ছে কেন্দ্র। আর তাই বাংলার ভাগের টাকা ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডা(J P Nadda) নাকি এ বিষয়ে ছাড়পত্র দিয়েছেন। সূত্রে তেমনটাই জানা গিয়েছে। এখন দেখার বিষয় কেন্দ্র সরকার বাংলার ভাগের আরও যে সব টাকা আটকে রেখেছে সেগুলি ছাড়ে কিনা। তার মধ্যে আছে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী গ্রামসড়ক যোজনা, মিড ডে মিল প্রকল্প। এগুলির টাকা ছাড়া হবে কী হবে না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকে এ বার মন্ত্রী বদল হয়েছে। মনসুখ মাণ্ডবীয়ের পরিবর্তে এসেছেন জে পি নাড্ডা। শুধু এই পরিবর্তনই ঘটেনি। এখন দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন সরকারের মনোভাবের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। মন্ত্রী বদল হয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকেও। গিরিরাজ সিংহের জায়গায় মন্ত্রী হয়েছেন শিবরাজ সিংহ চৌহান। সেখান থেকেও মিলছে টাকা ছাড়ার ইঙ্গিত, তবে সেটা এখনও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতো এতটা স্পষ্ট নয়। এই মন্ত্রকের হাতেই রয়েছে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী গ্রামসড়ক যোজনা। স্বাস্থ্য মিশনে ব্র্যান্ডিং না মানার অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের বিরুদ্ধে। বন্ধ ছিল প্রকল্পের টাকা। প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, সারা দেশে ‘Ayushman Bharat-Health and Wellness Centre’ চলছে। রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা তার বদলে ব্যবহার করছে ‘সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ নামটি। তা ছাড়া, ওই কেন্দ্রগুলির জন্য হলুদ-গেরুয়া রং প্রস্তাব করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু এ রাজ্যে তা ছিল নীল-সাদা।
গত বছর নভেম্বর নাগাদ স্বাস্থ্য মিশনের অধিকর্তা লিখিত ভাবে রাজ্যকে জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় দল জেলায়-জেলায় ঘুরে প্রকল্পের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে। কিন্তু রং-বিধি মানা হয়নি। এখন মনে করা হচ্ছে, বিধিকে ঘিরে সেই অনড় অবস্থান থেকে খানিকটা সরে আসছে কেন্দ্র। এটাও বলা যেতে পারে যে, রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে পূর্বেকার অনড় অবস্থান থেকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে তৃতীয় দফার মোদি সরকার। সাধারণত বছরে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্পে। যার মধ্যে ৬০% বা ১৮০০ কোটি টাকা দেয় কেন্দ্র এবং বাকি ৪০% বা ১২০০ কোটি টাকা রাজ্য। গত বছরের ২৩ জুলাই শেষ বার বরাদ্দ পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। এ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে দফায়-দফায় আলোচনাও হয় রাজ্যের। বকেয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরে তৈরি কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় কমিটিও এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল লোকসভা ভোটের আগে। কিন্তু পরিস্থিতির বদল ঘটেনি। স্বাস্থ্য মিশনের বরাদ্দে মা-শিশুর স্বাস্থ্য এবং জনস্বাস্থ্য পরিষেবার প্রায় পুরো কাজটাই হয়। প্রায় ৬০ হাজার আশাকর্মীকে ৭-৮ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতাও দেওয়া হয় ওই তহবিল থেকে। এই আবহে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ফের চালু হলে রাজ্যের ভাঁড়ারের পক্ষে তা স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তির।