নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রাক্তনকে শ্রদ্ধা বর্তমানের। বৃহস্পতিবার সকালেই বঙ্গ রাজনীতির এক অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। প্রয়াত হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী(Former Chief Minister of West Bengal) বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য(Buddhadeb Bhattacharya)। সেই যুগাবসানে প্রথমেই ট্যুইট করে শোকবার্তা জানিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী(Chief Minister of Mamata Banerjee) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। রাজ্যের সব সরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজে এদিন ছুটি ঘোষণা করে নিজেই চলে গিয়েছে কলকাতার পাম অ্যাভিনিউয়ে বুদ্ধদেববাবুর বাড়িতে। সেখানে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এদিন দুপুর সোয়া ১২টা নাগাদ পাম অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছান মমতা। বুদ্ধদেববাবুকে শেষ শ্রদ্ধা(Last Respect) জানিয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের সঙ্গে। তারপর বাইরে বেড়িয়ে আসেন বুদ্ধদেববাবুর পুত্র সুচেতন ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে। তাঁকে পাশে রেখেই মমতা মুখোমুখি হন সংবাদমাধ্যমের।
আরও পড়ুন বুদ্ধ প্রয়াণে ট্যুইটে শোকবার্তা মমতার, যাবেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতেও
সুচেতন ভট্টাচার্যকে পাশে নিয়ে বুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে মমতা জানান, ‘মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, লিডার অফ দ্য হাউজ়। তাছাড়াও অনেক দফতরের মন্ত্রী ছিলেন দীর্ঘদিন। ওঁর চলে যাওয়া রাজ্যের ক্ষতি। অনেকবার দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। অনেকবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন। এটাই বড় প্রাপ্য ছিল। ওঁর মৃত্যুর বয়স হয়তো হয়নি। কিন্তু যেহেতু ওঁর একটা সমস্যা ছিল, শ্বাসকষ্ট হত, আজ সকালেও বৌদি বললেন, ব্রেক ফাস্ট করেছেন, তারপরই শ্বাসকষ্ট হয়ে হঠাৎ চলে যান। সাড়ে বারোটার সময়ে দেহ পিস ওয়ার্ল্ডে নিয়ে যাওয়া হবে। তারপর পার্টি যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। দেহ দান করা রয়েছে। আগামিকাল সসম্নানে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গে আমরা তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে চাই গান স্যালুটের মাধ্যমে। আমি রবীন দেবকে বলেছি, দলের সঙ্গে কথা বলতে, পিস ওয়ার্ল্ডে না রেখে পরে যদি রবীন্দ্রসদনে, নন্দনে রাখতে পারেন। তাহলে অনেক মানুষ দেখতে পাবেন তাঁকে শেষ দেখা। বিধানসভাতেও নিয়ে যেতে বলেছি। স্পিকার সাহেবও ফোন করেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন বিধানসভার জনপ্রতিনিধি ছিলেন।’
আরও পড়ুন ধুতি-পাঞ্জাবি এবং কোলাপুরি চপ্পলে আপাদমস্তক বাঙালি, বিতর্ক শিল্পনীতিতে
মমতা এদিন আরও জানিয়েছেন, ‘বুদ্ধবাবু পার্থিব জগৎ থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু মানুষের জগতে বিচরণ করবেন। একজন মানুষ মরে গেলে, তিনি চলে যান, এমন নয়, তিনি বেঁচে থাকেন মানুষের মধ্যে তাঁর কাজের মাধ্যমে। তাঁর আত্মা শান্তি পাক। বারবার তিনি ফিরে আসুন এই বাংলার মাটিতেই। এই খবরটা যখন আমি শুনলাম, এতটাই টেনসড হয়ে গিয়েছিলাম, কীরকম একটা লাগছিল! ফিরহাদ অরূপ সারাক্ষণ থাকবে। গোটা বিষয়টি দেখবে। ব্যক্তিগত অনেক কথা রয়েছে, আজ বলার দিন নয়। আমি যখন আসতাম, যখন ভালো ছিলেন, অনেক কথা বলতেন, সেগুলো ব্যক্তিগত লেভেলের, সেগুলো বাইরে আনতে চাই না। আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ে গোপাল গান্ধি যখন রাজ্যপাল ছিলেন, একটা সুন্দর পরিবেশে আলোচনা হয়েছিল। গোপাল গান্ধি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘বলুন তো ভরা থাক গানটার অন্তরা কী?’ এই ঘটনাগুলো আমার মনে পড়ে। ৯২-তে যখন দাঙ্গা হয়, আমি ছুটে গিয়েছিলাম মহাকরণে, কোনও সাহায্যের যদি দরকার পড়ে। রাজ্যে যখনই কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে শান্তি বজায়ের জন্য দরকার সবসময় করেছি।