নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলার(Bengal) বেশির ভাগ মানুষই চিকিৎসার ক্ষেত্রে অ্যালোপ্যাথির ওপর নির্ভরশীল। তারপরেই মানুষ ভরসা রাখেন হোমিওপ্যাথির ওপরে। কিন্তু রাজ্যে ক্রমশ এমন অনেক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে যারা অ্যালোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথির ওপরে ভরসা না রেখে আয়ুর্বেদ(Ayurved), সিদ্ধা(Siddha) ও ইউনানি(Unani) পদ্ধতিতেও নিজেদের চিকিৎসা করাচ্ছেন। কিন্তু আয়ুর্বেদ, সিদ্ধা ও ইউনানি পদ্ধতির চিকিৎসায় যে সব ওষুধ ব্যবহৃত হয় বা হচ্ছে সেগুলি নিয়ে নানা রকমের অভিযোগ সামনে আসছে থেকেই থেকেই। এর মধ্যে সব থেকে বড় অভিযোগ হিসাবে সামনে আসছে আয়ুর্বেদ, সিদ্ধা ও ইউনানি পদ্ধতির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ নির্মাণের সময় ব্যবহার করা হচ্ছে স্টেরয়েড(Steroids)। এর ফলে দেখা যাচ্ছে রোগীর যত না লাভ হচ্ছে তার থেকে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। আর মাঝখান থেকে বদনাম হচ্ছে আয়ুর্বেদ, সিদ্ধা ও ইউনানি পদ্ধতির চিকিৎসা ব্যবস্থা। এবার এই ছবি বদলাতে উদ্যোগী হল রাজ্যের ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) সরকার। আয়ুর্বেদ, সিদ্ধা, ইউনানি—এই তিন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির ওষুধ প্রস্তুতকারকদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি পোর্টালে নথিভুক্ত করতে বলেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর(Health Department)। স্বাস্থ্য দফতরের ISM Drug Control এই নির্দেশ দিয়েছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, বাংলার অসংখ্য সংস্থা আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও সিদ্ধার ওষুধপত্র তৈরি করলেও একটি বড় অংশের গুণমান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের অভিযোগ, সনাতন আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি না মেনে ওষুধ তৈরির সময় স্টেরয়েড ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে প্রাথমিক সমস্যার হয়তো দ্রুত সুরাহা হচ্ছে কিন্তু পরবর্তীকালে আরও বড় সমস্যার জন্ম হচ্ছে। এই নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছেও বহু অভিযোগ জমা পড়ছিল। সেই জায়গা থেকে দাঁড়িয়েই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এ রাজ্যে যত আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও সিদ্ধার ওষুধপত্র তৈরি করার সংস্থা রয়েছে তাঁদের যাবতীয় তথ্য ‘E-Aushadhi’ পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হবে। লিঙ্ক খুলে যদি নথিভুক্তিতে সমস্যা হয় তাহলে কিউআর কোড দিয়েও কাজ করা যাবে। প্রস্তুতকারকদের বিভিন্ন তথ্য পোর্টালে নথিভুক্ত থাকলে তাদের দিকে নজর রাখার কাজেও সুবিধা হবে। কেননা স্বাস্থ্য দফতরের কাছে অভিযোগ এসেছে যে, হচ্ছে। ড্রাগ কন্ট্রোলের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে এ রাজ্যে আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও সিদ্ধার ওষুধপত্র তৈরির সংস্থাগুলি ওষুধগুলি ঘুরপথে দেশের অনান্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিচ্ছে। মাঝখান থেকে বদনাম হচ্ছে হাজার হাজার বছরের চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এই নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ার পরেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নামে ISM Drug Control। তাঁরা আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও সিদ্ধার ওষুধপত্র সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করে যার কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগের সারবত্তা মিলেছে বলেই জানা গিয়েছে। কিন্তু এখনই এই বিষয়ে বড় কোনও পদক্ষেপ করতে চাইছে না রাজ্য সরকার। তবে এই সব ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে চিঠি লিখে এই বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। আর সেই সঙ্গে ওই সব সংস্থার যাবতীয় তথ্য যাতে রাজ্য সরকারতের হাতের মুঠোয় থাকে তার জন্য সংস্থাগুলির যাবতীয় তথ্য ‘E-Aushadhi’ পোর্টালে নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে। আশা করা হচ্ছে চলতি জুলাই মাসেই সেই নথিভুক্তিকরণের কাজ শেষ হয়ে যাবে।