নিজস্ব প্রতিনিধি: কথায় বলে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙে। ঠিক যেমন তৃণমূলে(TMC) থেকে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নেওয়া ‘গদ্দার’রা সুযোগ মেলেই তৃণমূলের পিছনে ছুরি মারতে নেমে পড়ে। জোড়াফুলের রাজ্যসভার সাংসদ(Rajyasabha MP) সুখেন্দু শেখর রায়কে(Sukhendu Shekhar Roy) এখন জোড়াফুলের একটা বড় অংশই ‘গদ্দার’ বলে চিহ্নিত করছেন। এদিন সেই ‘গদ্দার’ আবার ট্যুইট করে বাস্তিল দুর্গ পতনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। সঙ্গে লিখেছেন, ‘১৭৮৯ সালের জুলাই…। বিক্ষোভকারীরা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিলেন বাস্তিল দুর্গ। জন্ম হয়েছিল ঐতিহাসিক ফরাসি বিপ্লবের।’ প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি বাংলায় বাস্তিল দুর্গ পেলেন কোথায়? বাংলার বুকে তৃণমূলের দাপটকেই কে তিনি বাস্তিলের সঙ্গে তুলনা করেছেন? আর এটাই কী বোঝাতে চাইছেন যে, বিক্ষোভকারীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) শাসন ক্ষমতা কেড়ে নেবেন? যদি সেটাই হয় তাহলে তৃণমূলে থেকে তৃণমূলের পতন কামনা করা ব্যক্তি কেন আর তৃণমূলে থাকবেন? কেন তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার বা সাসপেন্ড করা হবে না! সেই প্রশ্ন এবার উঠে গেল তৃণমূলের অন্দরে।
আরও পড়ুন, প্রতিবাদ মিছিল নাকি সিপিএমের মিছিল, প্রশ্ন উঠল শহরেই
এর আগেও আরজি কর-কাণ্ডে(R G Kar Incident) রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তুলেছিলেন সুখেন্দু। ১৪ অগস্ট ‘রাত দখল’-এর কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি। রাজ্যসভার সাংসদ জানিয়েছিলেন, তিনি মেয়ের বাবা, নাতনির দাদু। তাই তিনি মনে করেন, এই সময়ে প্রতিবাদে শামিল হওয়াটা জরুরি। ১৪ তারিখ দক্ষিণ কলকাতার যোধপুর পার্কে নেতাজি মূর্তির সামনে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ধর্নায় বসেছিলেন সুখেন্দু। নিজের মতো করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সেখানেই থামেননি তিনি। রাজ্যের শাসকদলের ‘অস্বস্তি’ বৃদ্ধি করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল এবং আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করার দাবি জানিয়েছিলেন সিবিআইয়ের কাছে। ওই পোস্টেই কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াড নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, আরজি করের ঘটনার তিন দিন পর ডগ স্কোয়াড গিয়েছিল হাসপাতালে। কেন এই বিলম্ব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সুখেন্দু।
আরও পড়ুন, ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড, রাজ্যের বিল সমর্থন নিয়ে আড়াআড়ি বিভক্ত বঙ্গ বিজেপি
আরজি কর-কাণ্ড এবং তার তদন্ত সংক্রান্ত ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সুখেন্দুকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল লালবাজারে। যদিও তিনি হাজির হননি। পরে কলকাতা হাইকোর্টে সুখেন্দু স্বীকার করে নেন, আর জি কর কাণ্ডে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ট্যুইটে ভুল তথ্য ছিল। উচ্চ আদালতে নিজের ভুল স্বীকার করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট মুছে দেওয়ার কথা জানান সুখেন্দু। হাইকোর্টে তিনি জানান, তথ্যগত কিছু বিভ্রান্তির কারণে ওই পোস্ট করা হয়েছিল। সেটি মুছে ফেলা হবে। তবে সুখেন্দুর ট্যুইটারে পরে ওই পোস্টের দেখা মেলেনি। মনে করা হয়, রাজ্যসভার সাংসদ পোস্টটি ডিলিট করে দিয়েছেন। সেখানেই শেষ হয়নি। এখন আবার সমাজমাধ্যমে তৃণমূলের ‘অস্বস্তি’ বাড়ানোর কাজ শুরু করে দিলেন তিনি। তার জেরে এবার তৃণমূলের অন্দরেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হতে শুরু করেছে। সবাই চাইছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হয় সুখেন্দুকে দল থেকে বহিষ্কার করুক নাহয় সাসপেন্ড করুক।