নিজস্ব প্রতিনিধি: সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্দেশখালিতে প্রসাশনিক সভার ফাঁকে মঞ্চ থেকে মমতা ঘোষণা করেন, উত্তর কলকাতার ঐতিহাসিক স্টার থিয়েটারের নাম বদলে রাখা হবে ‘বিনোদিনী’। সেই মতো প্রশাসনকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবরটি শোনার পরেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন পর্দার ‘বিনোদিনী’ রুক্মিণী। উত্তর কলকাতার স্টার থিয়েটারের সঙ্গে নটী বিনোদিনীর যোগসূত্রের কথা সবাই জানেন। কারণ ১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টার থিয়েটারের নেপথ্যে অন্যতম কারিগর ছিলেন বিনোদিনী। শোনা যায়, বিনোদিনীর সময়কালেই তাঁর নামে স্টার থিয়েটারের নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন গিরিশচন্দ্র ঘোষ এবং গুর্মুখ রায়। কিন্তু বিনোদিনী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। অবশেষে ‘বিনোদিনী’র নামেই ঐতিহ্যবাহী স্টার থিয়েটারের নামকরণ হতে চলেছে।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা শুনেই চোখে জল চলে আসে রুক্মিণী মৈত্রর। কারণ খুব শীঘ্রই পর্দায় ‘নটি বিনোদিনী’ হয়ে আসছেন রুক্মিণী। আগামী ২৩ জানুয়ারী মুক্তি পাচ্ছে রামকমল মুখোপাধ্যায় পরিচালিত বিনোদিনীর বায়োপিক ‘বিনোদিনী: একটি নটীর উপাখ্যান’। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন রুক্মিণী। ইতিমধ্যেই ছবির পোস্টার, টিজার প্রকাশিত হয়েছে। যা ভক্তদের কাছ থেকেও ভাল সাড়া পেয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই ‘বিনোদিনী’ চরিত্রের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন রুক্মিণী। এমনকী চিত্রনাট্য পড়ে তাঁর সংশয় ছিল, তিনি আদতে ছবির কাজ সম্পন্ন করতে পারবে কিনা! আর তাঁর ছবি মুক্তির সময়েই স্টার থিয়েটারের নাম ‘বিনোদিনী’ রাখার সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর, বিষয়টি নিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমকে অভিনেত্রী বলেছেন, খবরটা পাওয়া মাত্রই কেঁদে উঠেছিলেন তিনি। আজ ১৪০ বছরের লড়াই সার্থক। শুধু বিনোদিনীর নয়, বাংলার অগণিত নারীর জয় হল।
পাশাপাশি অভিনেত্রী আরও বলেন, চলতি পুজোতে মুক্তিপ্রাপ্ত সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘টেক্কা’-তে রুক্মিণীর অভিনয় দেখে তাঁকে ফোন করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেই সর্বপ্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর বিনোদিনী ছবির নতুন পোস্টার পাঠান রুক্মিণী। যা দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তিনি মন থেকে চেয়েছিলেন, যাতে স্টার থিয়েটারের নাম বদলায়। এরপর স্টারের নাম বদল ঘোষণায় ‘বিনোদিনী’ ছবিটিকে কতটা প্রভাবিত করবে, সেই প্রসঙ্গে রুক্মিণী বলেন, এর থেকে আর কোনও ভাল উপায়ে বিনোদিনী ছবির যাত্রা শুরু হতে পারত না! সেই কারণে বিনোদিনীর সম্পূর্ণ টিম মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। নারী অধিকারীর জন্যে বিনোদিনীর সেই লড়াই আজ সার্থকতা পেল বলে মনে করেন রুক্মিণী। মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর হাত এই যাত্রা শেষ হল।