নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যপাল, রাষ্ট্রপতি সকলকেই দায়িত্ব গ্রহনের আগে শপথ নিতে হয়। এবার থেকে শপথ নিতে হবে স্কুল পড়ুয়াদেরও। অবাক লাগছে তো? হ্যাঁ, এবার থেকে স্কুলের প্রার্থনা লাইনেই শপথ নিতে হবে পড়ুয়াদের।
কী হবে সেই শপথবাক্য? ‘আমি পড়াশোনা ছাড়া কোনও কাজে বৈদ্যুতিন গ্যাজেট ব্যবহার করি না…’। পড়ুয়াদের দিয়ে শপথবাক্য পাঠ করানোর জন্য সব স্কুলে স্কুলে এমনই নির্দেশ পাঠিয়েছে সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন। বর্তমান সময়ে ছোটোরা মোবাইল গেমস, ওটিটি বা সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। হাতে একটু সময় পেলেই চোখ থাকে স্ক্রিনে। কখনো মোবাইল, কখনও ট্যাব। গেমখেলাতেই বেশি নজর তাদের। তাই পড়াশোনায় মনযোগ বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় বোর্ডটি। স্কুল পড়ুয়ারা যাতে আরও প্রকৃতির কাছে ফিরে যায়, সেই ভাবনা চিন্তাও করা হয়েছে। এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে তা জানা যাবে ভবিষ্যতে।
বাংলায় রাজ্য সরকারই একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের স্মার্ট ফোন বা ট্যাব কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা দেয়। বহু বছর ধরে ডিজিটাল মাধ্যমেও চলছে পড়াশোনা। তবে করোনাকালের আগে সরকার এই বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। অনলাইন পড়াশোনায় জোর দিতে ২০২২ সালে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ট্যাব বা মোবাইল দেওয়ার প্রকল্পটি চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমদিকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের এটি দেওয়া হতো। বর্তমানে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদেরও টাকা দেওয়া হয়।এখানেই অভিযোগ উঠেছে, পড়াশোনার কাজে সেইভাবে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে না। তারবদলে গেম খেলা বা অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এই মোবাইল বা ট্যাব। অনেকেই তাই এই প্রকল্প বন্ধের পক্ষে কথা বলেছেন।
শিক্ষাদফতর সূত্রে খবর, বাংলায় স্মার্ট গ্যাজেটের জন্য পড়ুয়াদের টাকা দেওয়া হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সরকারি অনুদানে চলা স্কুলের পড়ুয়াদের হাতে মোবাইল ফোন বা ট্যাবের সংখ্যা দেশের অন্য রাজ্যের তুলনায় অনেকটাই কম। সিবিএসই ইংরেজি এবং হিন্দিতে মোট ছ’টি বাক্য প্রার্থনার সময় পড়ুয়াদের দিয়ে পাঠ করাতে অনুরোধ করেছে।