নিজস্ব প্রতিনিধি : বেআইনি বাড়ি ভাঙতে গিয়ে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে মেয়রের দরজা সবসময় খোলা আছে। ইঞ্জিনিয়ারদের আশ্বাস দিলেন মেয়র।কলকাতা পুরসভায় বিল্ডিং department কে নিয়ে শনিবার বিভাগীয় বৈঠক করেন কলকাতা পৌরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম(Mayor Firhad Hakim)।বৈঠকের শুরুতেই মেয়র দাবি করেন,গার্ডেনরিচ কাণ্ডের পর শহরে এই মুহূর্তে বেআইনি নির্মাণ শূন্য করতে পেরেছি।ইঞ্জিনিয়ারদের বিগত দিনে তিরস্কার করার পর শনিবার তাদের ভুয়সী প্রশংসা করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম । তিনি বলেন, আপনারা ভালো কাজ করছেন। তার ফলেই অনেকটা বেআইনি নির্মাণ আমরা আটকাতে পেরেছি।এদিন মেয়র দাবি করেন, কলকাতার শহরে সমস্ত হেলা বাড়ি অবৈধ নয়। কলকাতা পুরসভাকে বদনাম করা হচ্ছে।আগামী দিনে যারা ভাল কাজ করবেন তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানান মেয়র।বেআইনি বাড়ি ভাঙতে গিয়ে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে মেয়রের দরজা সবসময় খোলা আছে। ইঞ্জিনিয়ারদের আশ্বাস দিলেন মেয়র।
মেয়র বেআইনি নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেন, বোরো ৭ এবং বোরো ১৫তে বেআইনি নির্মাণের সমস্যাটা বেশি রয়েছে।বৈঠকে মেয়র বলেন, আমি একজন অভিভাবক হিসাবে নিশ্চয়ই আপনাদের বকাবকি করি। সমালোচনা করি। কিন্তু নিশ্চিত ভাবে আপনারা ভালো কাজ করছেন ।এইভাবে পুরো ইঞ্জিনিয়ারদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন মেয়র ।এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন , পুর কমিশনের ধাবল জৈন, ডিজে বিল্ডিং উজ্জ্বল সরকার, সমস্ত বোর্ডের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, এসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়াররা।বেআইনি বাড়ি আটকাতে একটা মনিটারিং টিম তৈরি করা হচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। পৌর সভার সুনাম আপনারাই আনতে পারবেন। আমার পক্ষে এক হাতে সম্ভব নয়। আয়নার সামনে দাড়িয়ে যদি বলতে পারব যে আমি কাজ করেছি। তাহলে একটা গর্ব বোধ হয়। 2010 সালে যখন মেয়র নিয়ে কথা হচ্ছিল। তখন আমাকে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমার ধারণা ছিল যে বড় আকারে বেআইনি বা দুর্নীতি হয়। কিন্তু দু কাঠা জমির উপর বেআইনি হবে সেটা জানা ছিল না। আপনাদের যে রোস্টার করে দেওয়া হয়েছে। সেটা মেনে চলেন তাহলে দেখবেন কাজ খুব ভালো হচ্ছে। আপনারা নতুন প্রজন্মের যুবকরা। এই বয়েসে যদি কাজ করেন , তাহলে পুরসভার বদনাম ঘুচবে।
হেলে পড়া বাড়ি মানেই বলা হচ্ছে বেআইনি বাড়ি ।কিন্তু সেটা নয়। যে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার সেই বুঝতে পারবে না। হেলে পড়ছে হেলে পড়ছে। কি ভাবে আমাদের পুরসভা কে বদনাম করা যায়। কি বলে আমাদের কিছু আসে যায় না। বেআইনি বাড়ি কোথায় হচ্ছে সেটা দেখবেন। কে কোথায় দরজা লাগিয়েছে। জালনা লাগাচ্ছে সেটা দেখবেন না। কোথায় বেআইনি করছে ফ্লোর করছে সেটা দেখবেন। আমার রাজ্য সরকারকে পাঠিয়েছি ৩কাঠার কম জমি নিয়ে অনুমোদন দেওয়ার জন্য। দুটি একটি জায়গায় একটু সেনসিটিভ আছে বোরো ৭ বোরো ১৫ আছে। আমি আপনাদের সমালোচনা করেছি তিরস্কার করেছি। কিন্তু আজ আপনাদের কে নিয়ে গর্ব করি। আমি বড় তাই একটু বোকা দিয়ে থাকি। আমাদের দেখাতে হবে যে আগামী চার মাস বেআইনি বাড়ির একেবারে জিরো হয়ে গেছে। রোস্টার অনুযায়ী রাস্তা হয়েছে। সেটা দেখতে হবে। আপনারা কাজ চালিয়ে যান। আপনাদের কাজই আপনাদের সুনামের অধিকারী হবেন বললেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
কমিশনার বলেন ৪টে ওয়ার্ডে সিঙ্গল ডিজিটে রয়েছে ।
বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ১০১থেকে ১৪৪ পর্যন্ত সার্ভে রিপোর্ট ছাড়া সরকারি জমিতে বাড়ি হয়ে যাচ্ছে। সেটা মেয়র পদক্ষেপ নিয়ে অনেকটা কমিয়ে দিয়েছেন। মানুষকে সচেতন করুন যে কত জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করার নিয়ম রয়েছে। অনেক জায়গায় ভরাট হচ্ছে সেটা যাতে রোধ করতে হবে। কিছু কিছু জায়গায় আপনাদের ঢুকতে পারছেন না সেখানে পুলিশের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।আমারা যদি বিল্ডিং ওয়েস্টকে আটকাতে পারি তাহলে ভরাটের কাজ রুখে দেওয়া যাবে। যদি পুকুর না থাকে তাহলে আমাদের পরের প্রজন্ম হৃদ্য় রোগে আক্রান্ত হয়ে যাবে। যদি কোথায় পুকুর ভরাট হলে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেবেন। জঞ্জাল অপসারণ দফতরকে। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেন মেয়র।