নিজস্ব প্রতিনিধি : কলেজের মধ্যে ছাত্রীকে গণধর্ষণের পরেও অনুতাপ, অনুশোচনা তো দূর ভয়ের লেশমাত্র ছিল না কসবা ল কলেজের ‘ম্যাঙ্গো দা’ মনোজিতের। ঘটনার পরেই গার্ডরুমে বসেই মদ্যপান করেছিল মনোজিৎ, প্রমিত ও জেব। তদন্ত করে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার দিন নিরাপত্তারক্ষীকে ভয় দেখিয়ে বাইরে বসিয়ে রেখেছিল মনোজিৎ ও তার সঙ্গীরা। ধর্ষণের পরেই রীতিমত জয়রাইড করে অভিযুক্তরা। ইএমবাইপাস লাগোয়া ধাবায় গিয়ে ডিনার সারে মনোজিৎ ও সাঙ্গপাঙ্গরা। নিশিযাপন সেরে বাড়ি ফেরে ৩ জন। কলের মধ্যে নিজেদের কুকীর্তির জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা ছিলনা তাদের।
ঘটনার পরদিনই টনক নড়ে মনোজিৎ-র। বিষয়টি বাড়াবাড়ি হয়ে গিয়েছএ বুঝতে পেরে কুকীর্তি ধামাচাপা দিতে ২৬ জুন সকাল থেকে তৎপরতা শুরু হয় মনোজিৎ-র। প্রথমে দেশপ্রিয় পার্ক লাগোয়া এলাকার এক প্রভাবশালীর দ্বারস্থ হয়েছিল সে। কিন্তু তাঁর কাছ থেকেও খুব বড়া আশ্বাস মেলেনি। একসময় ওই প্রভাবশালী জানান, এই পরিস্থিতিতে কোনওরকম সাহায্য করা সম্ভব নয়। এরপরেই রাসবিহারী এলাকায় এক প্রভাবশালী যুবনেতার দ্বারস্থ হয় সে। তাঁকে মনোজিৎ গডফাদার বলে মানে। তাঁকে গোটা ঘটনাটি জানিয়ে, বিপদ থেকে রক্ষা করার আর্জি জানায় সে। ঘটনার পরিস্থিতি বুঝে হাত গুটিয়ে নেন সেই মেন্টরও। ল’কলেজের গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে গতি আরও বাড়িয়েছে কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশ।
শুক্রবার সকালেই কসবা গণধর্ষণকাণ্ডে মনোজিৎ মিশ্র সহ ৩ অভিযুক্তকে নিয়ে ল’ কলেজে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। মুখ ঢাকা অবস্থায় তাদের কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। করা হয়েছে কলেজের থ্রিডি ম্যাপিং। শুক্রবার ঘটনাস্থলে ৪ অভিযুক্ত নিয়ে গিয়ে আরো একবার ঘটনার পুনর্নিমাণ করেছে পুলিশ। কলেজ এরিয়ার থ্রি মাপিং করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের ৩৬০ ডিগ্রী ছবি তুলতে এই থ্রি ডি ম্যাপিং করা হয়। ইউনিয়ন রুম, গার্ড রুম থেকে শৌচালয় সব জায়গায় থ্রিডি ম্যাপিং করা হয়েছে। ক্রাইম সিনের ডিটেল মডেল তৈরি করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কোন প্রমাণ যাতে চোখ না এড়িয়ে যায়, সেই জন্যই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।