নিজস্ব প্রতিনিধি: শহরের কিছু বয়স্ক নাগরিক এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের নিয়ে সোমবার কলকাতা পুলিশ ‘পুজো দর্শন’ নামক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। শিশু এবং বৃদ্ধদের নিয়ে কলকাতার কিছু বড় পুজো দেখানোই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। সেই কর্মসূচী চলাকালীন সময়েই কলকাতার(Kolkata) ধর্মতলায়(Esplanade) চলা জুনিয়র ডাক্তারদের(Junior Doctors Hunger Strike) কর্মসূচি নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার(CP of Kolkata Police) মনোজ বর্মা(Manoj Verma)। আর জি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে বিচার এবং হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা-সহ ১০ দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন ৭ জন জুনিয়র ডাক্তার। প্রথমে ৬জন অনশন শুরু করেছিলেন। রবিবার যোগ দেন আর জি করের অনিকেত মাহাতোও। অনশন কর্মসূচিতে এখনও সরকারের সাড়া মেলেনি। তবে তাকে কেন্দ্র করে ধর্মতলা চত্বরে সাধারণ মানুষের জমায়েতও হচ্ছে। জুনিয়রদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাতে সোমবার সকালে ২৪ ঘণ্টার জন্য অনশনে যোগ দিয়েছেন কয়েক জন সিনিয়র ডাক্তারও। এই আবহেই বাররাত দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার।
আরও পড়ুন, পাহাড়ে বন্ধ ৯টি চা-বাগানের শ্রমিকদের Ex-Gratia’র সুবিধা দিতে অনীতের চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে
এদিন সাংবাদিকেরা মনোজকে প্রশ্ন করেছিলেন ধর্মতলায় জুনিয়র ডাক্তারদের অনশন কর্মসূচী নিয়ে। কেননা ধর্মতলায় ১৬৩ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মসূচি চলছে। সাংবাদিকতা মনোজকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনারা তো ধর্মতলায় ১৬৩ ধারা জারি করেছেন। তার পরেও সেখানে জুনিয়র ডাক্তারদের অনশন চলছে। পুলিশ কী করবে?’ এই প্রশ্নের জবাবে মনোজ বলেন, ‘এ বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।’ ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ঠিক কী পদক্ষেপ করবে পুলিশ, তা মনোজ স্পষ্ট করেননি। এ বিষয়ে বেশি কথা বলেও চাননি তিনি। ঘটনা হচ্ছে, অনশনের জন্য ডাক্তারেরা লালবাজারের অনুমতি চেয়ে ইমেল করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। লালবাজার থেকে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়, ধর্মতলায় পুজোর মুখে ভিড় বেশি রয়েছে। প্রতি দিনই পুজোর কেনাকাটার জন্য বহু মানুষ ভিড় করছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা নিয়ে যাওয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডাক্তারেরা মেট্রো চ্যানেলের সামনে অবস্থানে বসলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে, জানিয়েছিল পুলিশ। তবে অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও অনশন শুরু করেছেন ডাক্তারেরা। সোমবার সেই অনশনের তৃতীয় দিন।
আরও পড়ুন, আগামী আর্থিক বছরের বাজেট পেশের প্রস্তুতি রাজ্য সরকারের
এদিকে ধর্মতলায় ডাক্তারদের কর্মসূচী নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন এক আইনজীবী। তাঁর আর্জি ছিল, ধর্মতলায় রাস্তার অধিকাংশ জুড়ে অনশনে বসেছেন ডাক্তারেরা। তাই তাঁদের রাস্তা ছেড়ে দিয়ে বা রাস্তার পাশে বসতে বলা হোক। এদিন সেই মামলা উঠেছিল শুনানির জন্য। কিন্তু এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করল না রাজ্যের উচ্চ আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম জানান, এই সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। তাই এই বিষয়ে এখনই কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। অর্থাৎ ডাক্তারদের আন্দোলনের জেরে পুজোর সময়ে ধর্মতলায় যান চলাচলের ক্ষেত্রে যে সমস্যা হচ্ছে তা বজায় থাকছে। সুপ্রিম কোর্টে আগামী ১৪ অক্টোবর আর জি কর মামলার শুনানি রয়েছে। সেদিন এই বিষয়টি শীর্ষ আদালতের সামনে তুলে ধরবেন রাজ্যের আইনজীবীরা।