নিজস্ব প্রতিনিধি: খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের উৎসব বড়দিনের ছুটি বাতিলের জন্য মোদি সরকারকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) অ্যালেন পার্কে বড়দিনের উৎসব উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘আগে বড়দিন জাতীয় ছুটি হিসাবে গণ্য করত। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার তা বাতিল করেছেন। আমরা কিন্তু বাতিল করিনি। আমরা ছুটি দিয়েছি। কারণ, ওই দিন সকলেই চায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। পরিবারের লোকেদের সঙ্গে বেরোতে। আমরা সব সম্প্রদায়ের উৎসব পছন্দ করি।’
এদিন থেকেই অ্যালেন পার্কে বড়দিনের কার্নিভাল শুরু হয়েছে। উৎসব চলবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর সোমবার পর্যন্ত। এদিন উৎসবের সূচনা করতে গিয়ে বাংলায় সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষের সহাবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে নিমন্ত্রণ করায় আমি খুশি হই। আমি ভাগ্যবান যে আমি এই রাত উদযাপন করার সুযোগ পাই। বাংলা সকলকে নিয়ে চলে। এটা একটা সুন্দর উৎসব। এটা আমাদের একার কৃতিত্ব নয়। বাংলার মানুষের কৃতিত্ব।’ বড়দিন উপলক্ষে ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর জনারণ্যের আকার ধারন করে পার্ক স্ট্রিট, অ্যালেন পার্ক-সহ সংলগ্ন এলাকা। মানুষ পরিবারকে নিয়ে উৎসবে সামিল হতে ছুটে যান। আর আনন্দের অনুষ্ঠান যাতে বিষাদে পরিণত না হয়, তার জন্য ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর পার্ক স্ট্রিটে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্প্রতি সংবিধান প্রণেতা তথা দলিত সম্প্রদায়ের ‘মসিহা’ বিআর আম্বেদকরকে নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবিরের তরফে ওই মন্তব্যের নিন্দা করা হয়েছে। যদিও চাপে পড়ে বুধবারই সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সাফাই দিয়েছেন শাহ। তিনি দাবি করেছেন, ‘আমার বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে। আগেও আমার বিবৃতি কৃত্রিম মেধার মাধ্যমে বিকৃত করা হয়েছিল।’ কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি। উল্টে এদিন সকালেই সংসদ চত্বরে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধেছে। ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়েছেন বিজেপি ও কংগ্রেস সাংসদরা। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির বিরুদ্ধে সংসদ মার্গ থানায় খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এদিনের বড়দিনের উৎসব উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে আম্বেদকরকে নিয়ে অমিত শাহের মন্তব্য নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘প্রতিটি সম্প্রদায়েরই আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। সকলকেই প্রয়োজন। বাবাসাহেব আম্বেদকরকে নিয়ে যে মন্তব্য করা হয়েছে, তা শুনে আমি স্তম্ভিত!’