নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রথমে ঠিক ছিল সফর হবে ৪ দিনের। পরে তা কমে হয়েছে ৩ দিন। যাওয়ার কথা ছিল গতকাল। পরিবর্তে যাচ্ছেন এদিন অর্থাৎ শুক্রবার। কথা ছিল বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। সেই জন্য তাঁর সচিবালয় থেকে চিঠি গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেই চিঠিতে দিন ও সময় চাওয়া হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। কিন্তু সেই চিঠির উত্তর বৃহস্পতিবার রাতেও এসে পৌঁছায়নি। তাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আলাদা করে তাঁর কোনও বৈঠক হচ্ছে না। তারপরেও অবশ্য তিনি তাঁর দিল্লি(New Delhi) যাত্রা বাতিল করছেন না। এদিনই তিনি কলকাতা(Kolkata) থেকে দিল্লির পথে রওয়ানা দিচ্ছেন কেন্দ্রের কাছ থেকে বাংলার(Bengal) প্রাপ্য ১ লক্ষ ৭১ হাজার কোটি টাকা পাওনার বার্তা নিয়ে। নজরে তৃণমূল(TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। এদিনই তিনি কলকাতা থেকে রওয়ানা দেবেন দিল্লির পথে।
কেন্দ্রের কাছ থেকে বিপুল টাকা পাওনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। বারবার সেকথা বলে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা। পাওনা আদায়ে দিল্লিতে ধর্ণাও দিয়েছেন তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীরা। এবার সেই বিপুল টাকা আদায়ের লক্ষ্য নিয়েই দিল্লি যাচ্চেন মমতা। তবে সেই টাকার ১ শতাংশও কেন্দ্র সরকার প্রদান করবে কিনা তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে খোদ নবান্নের আধিকারিকদের মধ্যেও। এই বিষয়টি যে মমতা জানেন না বা বোঝেন না তা মোটেও নয়। তিনি কেন্দ্রের এই মনোভাব সম্পর্কে বিলক্ষণ ওয়াকিবহাল। তবুও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি তাঁর দিক থেকে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখতে চাইছেন না। নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রের থেকে রাজ্যের মোট দাবি ১ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা হলেও, কেন্দ্রীয় কর-এ রাজ্যের ভাগ এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাপ্ত বকেয়া টাকাও তাঁর দাবির মধ্যে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন্দ্রের কাছ থেকে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প বাবদ রাজ্যের পাওনা প্রায় ৯০০০ কোটি টাকা। আবাসের জন্য প্রাপ্য ৮৪০০ কোটি টাকা। গ্রামীন সড়ক যোজনায় ৬০০০ কিলোমিটার রাস্তার প্ল্যান দেওয়া রয়েছে কেন্দ্রের কাছে। প্রতি কিলোমিটারে খরচ ৬২০০০ টাকা হিসেবে ৬ হাজার কিলোমিটারের অনুদান পড়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় অনুদানের পাওনা ৩৪,৬৮৪ কোটি টাকা দাবি করবেন মমতা। কেন্দ্রীয় করের রাজ্যের ভাগ হিসেবে পাওনা ৯২,৯০০ কোটি টাকাও দাবি করবেন মমতা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাবদ প্রাপ্য প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে কেন্দ্রের কাছে। প্রত্যেকটি খাতে পাওনা আলাদা করে হিসেব লিখে কেন্দ্রের কাছে জমা দিতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।