নিজস্ব প্রতিনিধি : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার গবেষক থেকে সোজা কলকাতা পুলিশের দারোগা! এমন উলটপুরাণের সাক্ষী থাকল কলকাতা পুলিশ। ইউজিসি-নেট উত্তীর্ণ যাদবপুরের গবেষক মিন্টু মল্লিক সম্প্রতি সাব ইনসপেক্টর হিসেবে কলকাতার বেলেঘাটা থানায় যোগ দিয়েছেন।
তবে এই গবেষক যাদবপুর থেকে পদার্থবিদ্যার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ডিসট্যান্সে রসায়নের স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেছেন। ২০১৬ সালে নেট উত্তীর্ণ হওয়ার পর, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা জয়তী দাসের অধীনে তিনি গবেষণা শুরু করেছিলেন। মাঝে করোনার জন্য ব্যাহত হয়েছিল গবেষণার কাজ।গবেষক মিন্টু মল্লিক গবেষণার মধ্যে রয়েছে ফসল, গ্রাফিন অক্সাইড সম্পর্কিত ইথিলিন গ্যাস সেন্সার স্কেল।
নেট উত্তীর্ন হওয়ার পরও কলেজে শিক্ষকতার চাকরি না জোটায় কিছুটা হতাশ হয়েই ২০২৩ সালে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার পর কলকাতা পুলিসের এসআই পদের নিয়োগ পরীক্ষায় বসেন মিন্টু। পরীক্ষায় উতরেও যান তিনি। ট্রেনিংয়ের সময় মিন্টুর শিক্ষাগত যোগ্যতা শুনে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছিলেন প্রশিক্ষকরা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রশিক্ষকের কথায়, ‘একজন দারোগার এমন শিক্ষাগত যোগ্যতা সাম্প্রতিক অতীতে আমাদের নজরে আসেনি।’
সদ্য কলকাতা পুলিসে যোগ দেওয়া এই দারোগা জানিয়েছেন, ‘আমাদের দেশে ফি বছর আমদানি-রপ্তানির সময় প্রচুর ফল পচে যায়। এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে এই স্কেল। ফল রপ্তানির সময় লরিতে স্কেল লাগানো থাকলে, যাত্রাপথে ফল কতটা পাকল তা জানা যাবে। ফলে পচন ধারার আগে ব্যবস্থা নিতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। এক্ষেত্রে ফল নষ্ট হবে না তেমন।’ একইসঙ্গে তিনি জানান, ‘আর পাঁচটার থেকে আলাদা হলেও পুলিশের চাকরি তাঁর ভালোই লাগছে।’