নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যাবতীয় উৎকণ্ঠা-উদ্বেগের অবসান। বুধবার (১৯ মার্চ) ভোরে নিরাপদেই মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বুকে ফিরে এসেছেন সুনীতা উইলিয়ামস-সহ চার মহাকাশচারী। ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ফ্লরিডার সমুদ্রে তাঁদের নিয়ে অবতরণ করে ইলন মাস্কের মহাকাশযান স্পেসএক্স। ভোর সাড়ে চারটের খানিক আগেই ড্রাগন ক্যাপসুল থেকে স্ট্রেচারে চেপে বাইরে আসেন সুনীতা। বাইরে বেরিয়েই হাত নাড়তে থাকেন তিনি। মুখে চওড়া হাসি তাঁর। আকাশ থেকে মাটিতে নামতে কেটে গিয়েছে ন’মাস। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পৃথিবীতে নেমে ইতিহাস গড়েছেন নাসার দুই নভেচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর। তাঁদের পৃথিবীতে পা রাখা মাত্রই দেশজুড়ে স্বস্তির আবহাওয়া। তার উপর সুনীতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত, তাই তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাসের পরাদ চড়ছেই। ‘ভারত কন্যার’ মহান কীর্তিতে আপ্লুত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
একটি সোশ্যাল মিডিয়া বার্তার মাধ্যমে তিনি সুনীতাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্পেস স্টেশনে সুনীতাদের উদ্ধার করতে যাওয়া টিমকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ‘সুনীতা, বুচের সাহস, মনোবল মানব জাতির গর্ব অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষত দেশের মেয়ে সুনীতার কীর্তি অসামান্য। তাঁরা অবশেষে যে পৃথিবীতে সফলভাবে ফিরতে পেরেছেন, তার জন্য শুভেচ্ছা। যারা নাসার নভোচরদের উদ্ধার করতে মহাশূন্যে পাড়ি দিয়েছিল, তাঁদেরকেও কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।’ ভারতীয় কন্যার সফল অবতরণে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।
Welcome Sunita Williams and Butch Wilmore back to earth, finally and safely, after so many days.
Our daughter of India returns to us, and we are deeply deeply happy and elated. We are profoundly happy for Butch Wilmore also. Hail their courage, hail their return, hail human…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 19, 2025
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ জুন মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর। আট দিন পরেই তাঁদের পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু যে যানে চড়ে তাঁরা গিয়েছিলেন, সেই বোয়িং স্টারলাইনারে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে মহাকাশেই আটকে পড়েন দুজন। বেশ কয়েকবার সুনীতা ও বুচারকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিল মার্কিন মহাকাশ বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা নাসা। যদিও সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ফলে আট দিনের মহাকাশ সফর দীর্ঘায়িত হয় ৯ মাসে। ভারতীয় সময় মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের মহাকাশযানে চেপে রওনা হন সুনীতা ও বুচ। তাদের সঙ্গে ছিলেন আরও দুই মহাকাশচারী নিক হেগ এবং আলেকজান্ডার গরবুনভ। মহাকাশ থেকে ২৮ হাজার কিলোমিটর বেগে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে থাকে স্পেসএক্স। যদিও পৃথিবী স্পর্শ করার আগে সাত মিনিটের জন্য ড্রাগন ক্যাপসুলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নাসার স্পেস সেন্টারের। দীর্ঘ ১৭ ঘন্টা যাত্রা শেষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে (ভারতীয় সময় বুধবার ভোর সাড়ে ৩টে) পৃথিবী স্পর্শ করে স্পেসএক্সের মহাকাশযান। শেষ মুহুর্তে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আগেভাগেই খালি করে দেওয়া হয়েছিল ফ্লরিডা উপকূলবর্তী সামুদ্রিক এলাকা। নির্ধারিত সময়েই ফ্লরিডার উপকূলে গাল্ফ অফ মেক্সিকোতে প্যারাসুটের সাহায্যে স্প্ল্যাশডাউন করানো হয় মহাকাশচারীদের। ঠিক তার পরই একটি উদ্ধারকারী ভেসেলে তোলা হয় ড্রাগন ক্যাপসুলকে। আধ ঘন্টা বাদে খোলা হয় গেট। প্রথমে স্ট্রেচারে করে বের করা হয় নিক হেগকে। হাসিমুখেই তিনি হাত নাড়েন। এর পরে একে একে বের করা হয় সুনীতা উইলিয়ামস, বুচ উইলমোরদের।