নিজস্ব প্রতিনিধি: ১০ দফা দাবিতে গত শনিবার থেকে কলকাতার(Kolkata) ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে আমরণ অনশন(Hunger Strike) শুরু করেন ৬জন জুনিয়র চিকিৎসক(Junior Doctors)। এই ৬জন হলেন তনয়া পাঁজা, স্নিগ্ধা হাজরা, সায়ন্তনী ঘোষ হাজরা, অনুষ্টুপ মুখোপাধ্যায়, অর্ণব মুখোপাধ্যায় এবং পুলস্ত্য আচার্য। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন অনিকেত মাহাতোও(Aniket Mahato)। সেই অনিকেতই টানা অনশনের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল রাতেই তাঁকে আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এনে ভর্তি করানো হয়। তাঁকে ICU-তে রাখা হয়েছে। আপাতত তাঁর চিকিৎসার জন্য ৫ সদদ্যের একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন, দর্শনার্থীদের সঙ্গে চলবে না কোনও খারাপ ব্যবহার, বাহিনীকে কড়া বার্তা মনোজ ভার্মার
গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালেই জানা গিয়েছিল অমিকেতের অসুস্থতা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুপুরে ধর্মতলার মঞ্চে গিয়ে অনিকেতের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন আরজি করের চিকিৎসক সৈকত নিয়োগী। তিনি জানিয়ে দেন, অনিকেতের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করানো প্রয়োজন। আইসিইউ-তে পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি তাঁকে। এর পরে রাতে অনশনমঞ্চে যান রাজ্য সরকার গঠিত চার চিকিৎসকের একটি দল। অনশনকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাঁরা জানান, অনিকেতের পাশাপাশি অনশনকারী আর এক জুনিয়র চিকিৎসক স্নিগ্ধা হাজরারও শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক ভাবে বেশি খারাপ। অনিকেত এবং স্নিগ্ধা দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করানো দরকার বলে তাঁরা জানান।
আর ও পড়ুন, আংশিক কর্মবিরতির ঘোষণা আর এন টেগোর হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তারদের
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাতোর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। অনিকেতের শরীরে জলশূন্যতা ছিল। তাঁর মূত্রে কিটোন বডিও পাওয়া গিয়েছে। ইতিমধ্যেই অনিকেতের চিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আর জি করের সিসিইউয়ের ইনচার্জ চিকিৎসক সোমা মুখোপাধ্যায় জানান, তাঁরা অনিকেতের চিকিৎসায় ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছেন। তাতে সোমা ছাড়াও রয়েছেন নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসক কানাইলাল কর্মকার, মেডিসিন বিভাগের সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বিশ্বদীপ মজুমদার এবং চিকিৎসক সুজয় কুমার রায়। অনিকেতের এই অসুস্থতার মধ্যেও কিন্তু এদিন ধর্মতলায় অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বাকি ৬জন। তবে টানা অনশনের জেরে তাঁরাও শারীরিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।