নিজস্ব প্রতিনিধি: কথা দিয়ে কথা রাখার ক্ষেত্রে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজির মেলা ভার। কেন্দ্রীয় সরকার নানা ছুতোয় আবাস যোজনার টাকা আটকে দেওয়ায় তিনি ঘোষণা করেছিলেন রাজ্য সরকারের তরফে গরিব মানুষদের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে মাথার উপরে ছাদ তৈরি করে দেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ওই প্রকল্পের পথচলা। নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের ২১ জেলার ৪২ জন উপভোক্তার হাতে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে প্রথম তালিকায় যাদের নাম ওঠেনি, তাদের মন খারাপ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলার জনদরদী মুখ্যমন্ত্রী। আশ্বাস দিয়েছেন, ‘আরও ১৬ লক্ষ পরিবারকে সমীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে যারা যোগ্য তাদের বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হবে।’
আবাস যোজনা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই মোদি সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সঙ্ঘাত চলছে। বঙ্গ বিজেপির তরফ থেকে কেন্দ্রের কাছে অভিযোগ করা হয়, আবাস যোজনার টাকা নিয়ে দুর্নীতি চলছে। প্রকৃতরা বাড়ি পাচ্ছেন না। ওই অভিযোগ পেয়েই রাজ্য সরকারের বকেয়া টাকা আটকে দেওয়ার পাশাপাশি নানা শর্ত দিতে শুরু করে কেন্দ্র। এমনকি দফায়-দফায় নিজেদের ‘মোসাহেব’ আমলা আর ‘পোষ্যভৃত্য’ হিসাবে পরিচিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্তাদের তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিল। কেন্দ্রের এ্বমন আচরণে চটে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘রাজ্য সরকারই গরিব মানুষদের উপরে পাকা ছাদ গড়ে দেবে।’ সেই মতো সমীক্ষা শুরু হয়। সমীক্ষায় প্রথম পর্যায়ে ১২ লক্ষ উপভোক্তার নাম চূড়ান্ত করা হয়। এদিন থেকে আবাসের প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া শুরু হল।
নবান্ন সভাঘরে বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৩ বছর ধরে ৭৯টি কেন্দ্রীয় টিম রাজ্যে এসেছে। আবাস যোজনায় কোনও অনিয়ম খুঁজে পায়নি। তাও টাকা দেওয়া বন্ধ করেছে। আমরাও কেন্দ্রের ভিক্ষা চাই না। নিজেদের টাকা দিয়েই বাংলার মানুষের মাথার উপরে পাকা ছাদ গড়ে দেব। সমীক্ষায় ১২ লক্ষ উপভোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতি উপভোক্তা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে পাবেন। ৬০ হাজার টাকা করে দুই কিস্তিতে টাকা দেওয়া হবে। আজ থেকে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া শুরু হল। আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে নির্বাচিত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে চলে যাবে টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক বিপর্যয় মাটির বাড়ি যাদের ভেঙেছে তাদেরও টাকা দেওয়া হবে।’ প্রথম দফায় যাদের নাম ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ওঠেনি, তাদের মন খারাপ করতেও বারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন, ‘পরের সমীক্ষা শিগগিরই শুরু হবে। যারা যোগ্য তারা কেউ বঞ্চিত হবেন না।’