নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্য সরকারের ভাঁড়ে টানাটানি চললেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) আমলেই যে রাজ্যবাসীর আর্থিক সুস্থিরতা এবং প্রাচুর্য এসেছে সেটা এবার সামনে চলেই এল। নেপথ্যে National Stock Exchange’র সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট। সেখানে পরিষ্কার ভাবেই বলে দেওয়া হয়েছে, দেশের মধ্যে যে ৫টি রাজ্য থেকে শেয়ার বাজারে নিয়মিত লগ্নি হয়ে চলেছে তার মধ্যে রয়েছে মমতার বাংলাও(Bengal)। শেয়ার বাজারে সক্রিয় লগ্নি কোন রাজ্য থেকে বেশি হয়, তা নিয়ে National Stock Exchange’র রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের প্রথম যে ৫টি রাজ্য থেকে এখন নিয়মিতভাবে শেয়ার বাজারে বড় লগ্নি হচ্ছে সেগুলি হল বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্র, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থান এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা। এই রিপোর্ট কার্যত বলে দিচ্ছে, মমতার সরকারের আমলেই বাংলার মানুষের আর্থিক স্বাচ্ছল্য(Financial Comfort) এসেছে। সেই কারণেই তাঁরা এখন সাহস পাচ্ছেন শেয়ার বাজারে(Share Market) নিজেদের উপার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করার। কেননা কে না জানে শেয়ার বাজারে টাকা বিনিয়োগের ঝুঁকি কতখানি। তবুও তাঁরা ঝুঁকি নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন, মহালয়ার দিন রাজ্যজুড়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, National Stock Exchange’র এই রিপোর্টের গুরুত্ব কোথায়? আর বাংলা থেকে লগ্নি বাড়ছে তো তার সঙ্গে মমতার সরকারের সম্পর্ক কোথায়? এর উত্তরে আরও একটি প্রশ্নের জন্ম দিতে হয়। আর তা হল – মানুষ কখন শেয়ার বাজারে লগ্নী করে? এর উত্তর, মানুষের হাতে রুটি, কাপড় আর বাসস্থানের চাহিদা মিটিয়ে, নিজেদের যাবতীয়া চাহিদা পূরণ করে যখন হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকে তখনই সে সেই অতিরিক্ত অর্থ কোনও এক জায়গায় বিনিয়োগ করে সেখান থেকে লাভের মুখ দেখতে চায়। হাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ না থাকলে কিন্তু কেউ চট করে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে ছোটে না। সেই সঙ্গে আর্থিক নিরাপত্তাও থাকা চাই। প্রয়োজন থাকা চাই সামাজিক নিরাপত্তারও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাংলার মানুষকে সেই নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছে বলেই মানুষ আজ সাহস পাচ্ছে, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার। মমতার আমলে রাজ্যবাসীর আর্থিক সুরক্ষা বেড়েছে, আয় বেড়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মিটিয়েও হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকছে যা নিয়ে সে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার সাহস পাচ্ছে।
আরও পড়ুন, Organized Crime Control Cell, চালুর ভাবনাচিন্তা চলছে রাজ্য সরকারের
National Stock Exchange’র রিপোর্টে বলা হয়েছে লগ্নিকারীদের অংশগ্রহণের নিরিখে, দেশের মধ্যে শীর্ষে আছে মহারাষ্ট্র। ১ কোটি ৭০ লক্ষ লগ্নিকারী সেখানে। যারা দেশের মোট ট্রেডিংয়ের ১৬.৮ শতাংশ অবদান রাখেন। এই তালিকায় উত্তরপ্রদেশ দ্বিতীয় স্থানে। সেখানে গত কয়েক মাসে লগ্নিকারী সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ বেড়েছে। এপ্রিলে লগ্নিকারীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি। অগস্টে ১ কোটি ১০ লক্ষ। দেশের মোট লগ্নির ১১.১ শতাংশ করেছে সে রাজ্যের লগ্নিকারীরা। তৃতীয় স্থানে থাকা গুজরাটের লগ্নিকারীর সংখ্যা ৮৮.৫ লক্ষ। যারা শেয়ার বাজারের ৮.৭ শতাংশ লগ্নির পিছনে ভূমিকা রাখেন। এর পরই রয়েছে মমতার বাংলা। এরাজ্যে থেকে শেয়ার বাজারে লগ্নিকারীর সংখ্যা ৫৯ লক্ষ। মোট লগ্নির প্রায় ৫.৮ শতাংশ হয় বাংলা থেকে। রাজস্থানের ক্ষেত্রে লগ্নিকারীর সংখ্যা ৫৭.৮ লক্ষ। মোট লগ্নির ৫.৭ শতাংশ এই রাজ্যের অবদান থাকে। একই সঙ্গে এই রিপোর্ট বলছে, শেয়ার বাজারে দেশের মোট লগ্নিকারীর ৪৮ শতাংশ বা প্রায় অর্ধেক এই ৫ রাজ্য থেকে আসছে। অগস্ট মাসে ভারতীয় স্টক মার্কেট ১০ কোটির মাইলস্টোন ছুঁয়েছে। নথিভুক্তকারী লগ্নিকারীর সংখ্যা ১০ কোটি পেরিয়েছে। এই পরিসংখ্যানই দেশের নাগরিকদের লগ্নির দিকে ঝোঁকার প্রবণতাকে চিহ্নিত করছে।