নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতার(Kolkata) আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক পড়ুয়া তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় টানা কর্মবিরতিতে চলে গিয়েছিলেন রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকেরা(Strike of Junior Doctors)। যদিও সেই সব চিকিৎসকদের একটা বড় অংশই এখন আবার কাজে যোগদান করেছেন। কিন্তু তাঁদের টানা কর্মবিরতির জেরে বেশ কিছু রোগী যেমন মারা গিয়েছেন, তেমনি অসংখ্য রোগী বড়সড় ক্ষতির মুখে এসে দাঁড়িয়েছেন। সেই সব ক্ষতির অন্যতম হল চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো ঘটনাও। কলকাতা তো বটেই, চোখের চিকিৎসার জন্য রাজ্যের প্রথমসারির হাসপাতাল হিসাবে চিহ্নিত Regional Institute of Ophthalmology বা RIO যা সেন্ট্রাল অ্যাভেন্যুউতে অবস্থিত। সেখানকার জুনিয়র চিকিৎসকেরাও কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন। টানা ৪২ দিনের সেই কর্মবিরতির নিট রেজাল্ট, ৫ হাজার চোখের অপারেশন(Eye Operation) না হওয়া। আরও ভয়াবহ ছবি হল, বেশ কিছু রোগীর দৃষ্টিশক্তি(Eyesight) চলে যাওয়ার মতো সম্ভাবনা তৈরি হওয়া। এত সব জেনেও আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের বড় একটি অংশ বলে যাচ্ছে, ‘সব চালু আছে। সব ঠিক আছে।’
আরও পড়ুন, বন্যায় নষ্ট ২ লক্ষ হেক্টর জমির ধান, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা পাবেন বাংলার শস্যবিমার সুবিধা
জানা গিয়েছে, জুনিয়র চিকিৎসকদের টানা ৪২ দিনের কর্মবিরতির জেরে RIO’র চিকিৎসা পরিষেবা জোরালো ভাবে ধাক্কা খেয়েছে। চিকিৎসক মহলের একাংশের আশঙ্কা, এই ধাক্কায় বহু রোগীর দৃষ্টিশক্তি চলে যেতে পারে এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে। চোখের চিকিৎসার উৎকর্ষকেন্দ্রে প্রায় দেড় মাস ধরে চলা কর্মবিরতির জেরে কতটা ক্ষতি হল পরিষেবার? সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪২ দিনের কর্মবিরতির সময়ে ১২০ ডাক্তারের জায়গায় কাজ করেছেন মাত্র ১৬ জন! এই ৪২ দিনে প্রায় ৫ হাজার চোখের অপারেশন হয়নি। ছানি কাটা সহ অন্যান্য অপারেশন মিলিয়ে রোজ কমবেশি ২৫০ অপারেশন হওয়ার কথা ছিল এই সময়ে। সেখানে নাকি জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির কারণে প্রতিদিন অর্ধেকেরও কম (১০০ থেকে ১২০) অপারেশন হয়েছে। যদিও RIO’র অধিকর্তা ডাঃ অসীমকুমার ঘোষ দাবি করে জানিয়েছেন, ‘আর জি কর ইস্যুতে জুনিয়র ডাক্তারদের আবেগকে আমরা সম্মান করি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছি আমরা।’
আরও পড়ুন, ক্যান্সার আক্রান্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার পেনশন চালুর নির্দেশ হাইকোর্টের
RIO’র সূত্রে জানা গিয়েছে, জুনিয়র চিকিৎসকদের টানা ৪২ দিনের কর্মবিরতির জেরে না হওয়া অপারেশনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ছানি অপারেশন। এর পরই আসছে Retinal Reattachment। এছাড়া আছে ট্রমা বা চোখে চোট-আঘাত, অকুলোপ্লাস্টি, রাপচার, অকুলার টিউমার, ভিট্রিয়াস হেমারেজ সহ চোখের নানা ধরনের গুরুতর সমস্যা। এই কর্মবিরতির সময়ে ওই হাসপাতালের আউটডোর করছেন মাত্র ৩ জন চোখের ডাক্তার। দেখছেন ৬০০-৭০০ রোগী! স্বাভাবিক সময়ে RIO-তে শুধু ছানি অপারেশনই হতো ১৪০-১৫০টি। সেই জায়গায় হয়েছে ৫০-৬০টি। রেটিনাল ডিটাচমেন্ট সাধারণ সময়ে হতো দিনে ১৪-১৫টি। গত দেড় মাসে হয়েছে গড়ে ৪ থেকে ৫টি। এরফলে বহু রোগীর চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন শহরের চিকিৎসক মহলের একাংশ। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, যে সব রোগী ক্ষতিগ্রস্থ হলেন বা হয়েছেন এই কর্মবিরতির জন্য সেই সব রোগীকে ক্ষতিপূরণ কে দেবে আর কীই বা দেবে? চোখ চলে গেলে সেই চোখ তো আর ফেরত পাওয়া যাবে না। চিরকালের জন্য সেই চোখে অন্ধকার নেমে আসবে।