নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রতিমুহূর্তে নিজেদের চাল বদল করছে প্রতারকরা। একেক সময়ে একেক ভাবে সাধারণ মানুষের আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সামান্য অসতর্কতা, অসহায়তার সুযোগ নিয়েই সমস্ত তথ্য হাতিয়ে সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রতিদিনই নিজেদেরকে নতুন নতুন করে সাজিয়ে মানুষের সামনে উপস্থাপন করছে প্রতারকরা। মানুষও বুঝতে না পেরে তাদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে হয়ে যাচ্ছে সর্বসান্ত।
ডিজিটাল অ্যারেস্ট শব্দটির সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে আমরা পরিচিত। বৃদ্ধ মানুষদের মূলত টার্গেট করে তাদের সর্বস্ব লুঠ করছিল প্রতারকরা। শুধু বৃদ্ধ মানুষই নন, যুব সমাজকেও নিশানা বানিয়েছে তারা। এবার তারাই নতুন সাজে হাজির হয়েছে সাধারণ মানুষের সামনে। কখনো যদি কেউ ফোন করে গম্ভীর গলায় বলে, বাংলাদেশের ওয়েবসাইট এবং একাউন্টে আপনার সন্দেহজনক ঘোরাফেরা দেখা দিয়েছে। দেশের গোপন তথ্য আপনার মাধ্যমেই চলে গিয়েছে বাংলাদেশের কাছে। এই বিষয়ে আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাহলে মানুষ ভয় পেতে বাধ্য। অনেকেই মনে করতে পারেন, গুরুতরক ঘটনায় ফেঁসে গিয়েছেন তারা। কিন্তু পুরোটাই আসলে ভুয়ো। আপনার এই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা হাতিয়ে নিতে চাইছে সমস্ত তথ্য। তাই ডিজিটাল অ্যারেস্ট গোল বদলে এসেছে অনলাইন জেরা।
সাইবার সেল বা পুলিশের পক্ষ থেকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলেছে। বারংবার এই জিনিসটি মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করায় কিছুটা কাজে এসেছে। মানুষ এখন অনেকটাই সচেতন হয়েছে। তাই লোক ঠকানোর কৌশল বদলাচ্ছে প্রতারকরা। কলকাতা পুলিশের সাইবার থানা সহ একাধিক ডিভিশনের সাইবার সেলে অনলাইন জেরার কথা বলে প্রতারণার বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। ন’টি অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতারকদের এই নয়া কৌশলকে আটকাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতা প্রচার শুরু করেছে পুলিশ।