নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা শহরের বুকে ঘটল আবার ডিজিটাল অ্যারেস্টর ঘটনা। এবার সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্তাকে পার্ক স্ট্রিটের(Park Street) একটি হোটেলে ডিজিটাল বন্দি করে তার একাউন্ট থেকে দফায় দফায় নিয়ে নেওয়া হল ২৫ লক্ষ টাকা। ঘটনা তদন্তে নেমে পুলিশ হাওড়া নিউ টাউন এইসব এলাকায় হানা দিয়ে মোট আটজনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে একাধিক জন ভিন রাজ্যের। ধৃতদের শুক্রবার আদালতে পেশ করে হেফাজতের নিল পুলিশ। জানা গেছে সিবিআই পরিচয় দিয়ে অভিযুক্তরা পার্ক স্ট্রিটের একটি হোটেলে ইন্ডিয়ান ব্যুরো অফ স্ট্যান্ডার্ডসের ডেপুটি ডিরেক্টর শৌভিক শিকদারের কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা দফায় দফায় নিয়ে নেওয়া হয়।
ওই কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ অফিসার পর্ণশ্রী থানায়(Parnashree P.S.) অভিযোগ করেন তাকে ২২মে মোবাইল ফোনে ফোন করা হয়। তার নামে একটি পার্সেল এসেছে এবং তাতে মাদক আছে। এই বলে তার ব্যাংক একাউন্ট যাচাই করবে সিবিআই এ কথা বলা হয়। ওই পদস্থ অফিসারের অভিযোগ, তাকে পার্ক স্ট্রিটের একটি হোটেলে ‘ডিজিটাল বন্দি'(Digital Arrest) করে রাখেন অভিযুক্তরা। সেই সময় তাকে অনলাইনে ২৫ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। অভিযুক্তরা প্রতিশ্রুতি দেয় সিবিআই একাউন্ট যাচাই করার পর তার পাঠানো টাকা তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর ওই অফিসার প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ২৩ মে পর্ণশ্রী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে গত ৫ জন বৃহস্পতিবার রাতে নিউ টাউন ও ইকো পার্ক এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের নাম নরপত সিংহ ,রাজেন্দ্র সোনি, হরিশ কুমার।
তাদের সূত্র ধরে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা(Golabari P.S.) এলাকা থেকে আরো পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। সেখান থেকে ধরা পড়ে মনোহর, সংগ্রাম সিংহ ,সুরাজ, দিলীপ এবং জিতেন্দ্র। হাওড়া থেকে যারা গ্রেফতার হয় তাদের বাড়ি রাজস্থানের যোধপুরে। এরা সকলে কলকাতায় এসে নিউটাউনে (Newtown)ঘর ভাড়া নিয়েছিল। তারপরে প্রায় এরা ঠিকানা বদল করে। হাওড়া থেকে এরা প্রতারণা শুরু করে। পুলিশ ধৃতদের কাছ থেকে বেসরকারি ব্যাংকের দুটো সোয়াইপ যন্ত্র, ৫টি আধুনিক মোবাইল ফোন ও ব্যাংকের বেশ কয়েকটি পাশ বুক ,চেক বই, আধার ,প্যান, ভোটের কার্ডের প্রতিলিপি উদ্ধার করেছে। শুক্রবার এই ৮ প্রতারককে আলিপুর আদালতে পেশ করলে ১৮ জুন পর্যন্ত তাদের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এই চক্রে আর কেউ যুক্ত আছে কিনা তাদের সন্ধানে কলকাতা পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।