নিজস্ব প্রতিনিধি: ডিজিটাল দুনিয়ায় দাপিয়ে বাড়ছে ডিজিটাল অ্যারেস্ট। অর্থাৎ অভিনব কায়দায় ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষের থেকে কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। বলিহারি সাধারন মানুষ! সব কিছু জানার পরেও অনেকে ওই প্রতারকদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে। এবার জলপাইগুড়িতে যা ঘটল, তা শুনে মাথায় হাত পুলিশেরও। ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁও-তে জঙ্গি হামলার ঘটনাকে সামনে রেখে ডিজিটাল অ্যারেস্ট। যেখানে ২৬ জন নিরীহকে গুলি করে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি জঙ্গিরা।
প্রতারকদের নয়া ছকে চোখ কপালে পুলিশের। কারণ ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদ পেতে জলপাইগুড়ির এক ব্যবসায়ীর থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করল প্রতারকেরা। যা রীতিমতো পুলিশকেও বিভ্রান্ত করেছে। যদিও ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ির সাইবার পুলিশ সেই ব্যক্তির লুট হওয়া টাকার মধ্যে ১১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের সন্দেহ, কম্বোডিয়ায় বসে ব্যাক্তির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, সম্প্রতি জলপাইগুড়ির সেনপাড়ার বাসিন্দা ঝন্টু বসুর সঙ্গে এই ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁকে মহারাষ্ট্র পুলিসের নাম করে ভিডিও কল করা হয়েছিল। যেখানে প্রতারকরা জানান যে, পহেলগাঁও হামলায় জড়িত জঙ্গিরা তাঁর সিম ব্যবহার করেছে! যে কোনও সময় তাঁর উপর হামলা হতে পারে। এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। আর তাতেই ভয় পেয়ে যান ঝন্টুবাবু। এরপর তাঁকে বলা হয়, ‘যদি বাঁচতে চান, তাহলে ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। নয়তো আপনার বাড়ি থেকে বেরোনো মুশকিল হয়ে যাবে।পাশাপাশি দুঘণ্টা অন্তর আপনাকে মেসেজ করে আমাদের জানাতে হবে যে আপনি সুরক্ষিত আছেন কি না!’
এরপরেই অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে ১৫ লক্ষ টাকা একটি অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন ওই ব্যবসায়ী। পরে আরও টাকা চাওয়া হলে তিনি প্রতারিত হচ্ছেন যে বুঝতে পারেন। এবং তড়িঘড়ি জলপাইগুড়ি সাইবার পুলিশে দ্বারস্থ হন। পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে, তিনি যে অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়েছেন, সেটি রাজস্থানের। এখনও পর্যন্ত সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, বাকি টাকাও পুলিশ ফিরিয়ে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে পুলিশ বড় সফলতা পেলেন। সাধারণত প্রতারিত হওয়া টাকা ফিরে পাওয়া মুশকিল।