নিজস্ব প্রতিনিধি: ফের এগিয়ে বাংলা। জলপথ পরিবহণের ক্ষেত্রে নয়া নজির গড়ল রাজ্য। দেশের মধ্যে প্রথম বিদ্যুৎচালিত ভেসেল চলবে কলকাতার গঙ্গায়। দেশের আর কোথাও জলপথ পরিবহণে পরিবেশবান্ধব এই ধরনের ফেরি পরিষেবা নেই। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বাবুঘাটে গঙ্গাসাগর মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আউট্রাম ঘাট থেকে ওই ভেসেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা, স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। পরিবহণ দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, নয়া বিদ্যুৎচালিত ভেসেলটি মিলেনিয়াম পার্কের জেটি থেকে বেলুড়মঠ হয়ে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত যাবে।
এদিন নয়া ভেসেলের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ দূষণ কমাতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করবে বিদ্যুৎচালিত এই ভেসেল। এতে যাত্রীরা যেমন আরও বেশি সুরক্ষিত থাকবেন, তেমনই অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করবেন। আগামী দিনে এই ধরনের আরও ১২টি ই-ভেসেল এবং ১২টি ই-বার্জ চালানো হবে।’ বিদ্যুৎ চালিত ভেসেল ‘ঢেউ’-এ দু’টি শ্রেণি থাকছে। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে সফর করতে পারবেন ৩০ জন। আর সাধারণ শ্রেণিতে ৬২ জন। পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের আশা, প্রতি বছর অন্তত ৫০ হাজার যাত্রীকে পরিষেবা দেওয়া হবে।
এদিন গঙ্গাসাগর মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বার বার দাবি জানিয়েছি, ফের একবার কেন্দ্রকে বলছি গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দিন।’ রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের আগে গঙ্গাসাগর মেলা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার জন্য কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘গঙ্গাসাগর মেলা হল এক মহাযজ্ঞ। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর গঙ্গাসাগর মেলার জন্য আমাদের সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। পূণ্যার্থীদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা বিমা করা হয়েছে। যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাড়তি বাস ও ভেসেল চালানো হচ্ছে। নদী পেরিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতে পূণ্যার্থীদের যাতায়াত করতে না হয়, তার জন্য মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ওই সেতু নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে পূণ্যার্থী ও সাধারণ মানুষকে কষ্ট করে যাতায়াত করতে হবে না।’ গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য বাবুঘাটে যারা অস্থায়ী শিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন সেই পূণ্যার্থীদের মেলা প্রাঙ্গনে আগুন জ্বালিয়ে রান্নাবান্না না করারও পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে গঙ্গাসাগরমুখী পূণ্যার্থীদের যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি খাবার পৌঁছে দেন, তাঁদেরও রান্না করা খাবার আনার কথা বলেছেন।