নিজস্ব প্রতিনিধি: ওয়াকফ-হিংসায় মুর্শিদাবাদের নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অশান্তির জেরে যাঁদের বাড়িঘর, দোকান ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে গিয়েছে তাঁদেরও দেওয়া হবে এই ক্ষতিপূরণ। ওয়াকফ আইন নিয়ে কয়েক দিন ধরেই চলছে চূড়ান্ত অশান্তি মুর্শিদাবাদের কিছু কিছু এলাকায়। তবে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে।
ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে দেশের নানা অংশের পাশাপাশি এ রাজ্যেরও বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গিয়েছে বিক্ষোভ। বিক্ষোভ হয়েছে মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলার বেশ কিছু এলাকায়। কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়েছে যে, মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষে প্রাণহানিও ঘটেছে। অশান্তি ছড়িয়েছে সুতি, জঙ্গিপুর, সামশেরগঞ্জ এবং ফরাক্কায়। আহত হয়েছেন অনেক মানুষ। ভেঙে ফেলা হয়েছে দোকানও। অশান্তির কারণে ঘরছাড়াও হয়েছেন অনেকে। তাঁদের ইতিমধ্যেই ঘরের ফেরানোর কাজ শুরু করেছে পুলিশ-প্রশাসন। এবার বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে এই অশান্তি নিয়ে মুখ খুললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, ‘‘অশান্তির ঘটনায় দুই পরিবারের তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’’
বাড়ি-ঘর নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘বাংলা বাড়ি প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি তৈরি করে দেবে সরকার।’’ শুধু বাড়িঘর নয়, দোকানপাটও ভাঙচুর হয়েছে। তাঁদেরও সাহায্য করা হবে বলে ঘোষণা করলেন মমতা। তিনি জানান, দোকানপাট কার কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখবেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সেই ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
গত শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের একটি অংশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে পুলিশ-প্রশাসনের তরফে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে মুর্শিদাবাদে। বিএসএফ সূত্রে খবর, ১৭ কোম্পানি বাহিনী রয়েছে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী টহল দিচ্ছে উত্তপ্ত এলাকায়। শনিবার রাতেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুর্শিদাবাদে গিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। এ ছাড়াও, বিভিন্ন জেলা থেকে ‘দক্ষ’ ২৩ জন পুলিশ আধিকারিককেও পাঠানো হয় সেখানে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখেন ডিজি। ঘুরে দেখেন হিংসাকবলিত এলাকা।
মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি নিয়ে মমতা জানিয়েছিলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকার সকলের রয়েছে। কিন্তু তা অনুমতিসাপেক্ষে। তবে কোনও রকম প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আহ্বানও জানান মুখ্যমন্ত্রী।