নিজস্ব প্রতিনিধি: সুপ্রিম কোর্ট(Supreme Court) গতকালই নির্দেশ দিয়ে দিয়েছিল, আর জি কর হাসপাতালে(R G Kar Medical College and Hospital) মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই মতো এদিন সকালে Central Industrial Security Force বা CISF’র দুই কর্তা পা রাখলেন আর জি করে। এই ২জন মধ্যে একজন হলেন বাহিনীর DIG কে প্রতাপ সিং। তাঁর সঙ্গে আছেন আরও এক SP পদমর্যাদার আধিকারিক। এদিন সকাল ৯টা নাগাদ দুইজনে আর জি করে আসেন পরিদর্শনে। সূত্রের খবর, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতেই সেখানে আসেন ২জনে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ হাসপাতালের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। হাসপাতালের ইন্টার্ন, রেসিডেন্ট ডাক্তার ও সিনিয়র চিকিৎসকরা যাতে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, তার জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছিল শীর্ষ আদালত। সেই সূত্রেই সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুপ্রিম কোর্টকে আশ্বস্ত করেছিলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে CISF কিংবা CRPF জওয়ানকে আর জি কর হাসপাতালে মোতায়েন করা যাবে। এদিন কার্যত পরিষ্কার CISF জওয়ানরাই হাসপাতালে মোতায়েন হচ্ছেন।
আরও পড়ুন, আর জি করে গত ১২ দিনে বাতিল ১০০০’রও বেশি অপারেশন
এদিকে এদিন সকালেই সল্টলেকের CGO Complex’র CBI কার্যালয়ে হাজিরা দেন আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ(Sandip Ghosh)। এই নিয়ে তিনি পর পর ৬দিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর মুখোমুখি হলেন। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সন্দীপ জেরায় বিভ্রান্ত করছেন সিবিআই আধিকারিকদের। এক এক সময় এক এক কথা বলছেন। বার বার নিজের বয়ানেও বদল আনছেন। এহেন পরিস্থিতিতে এদিন সিবিআই আধিকারিকেরা তাঁকে বেশ কিছু নথি সঙ্গে নিয়ে আসতে বলেছিল। সেই সব নথি নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের বেশ কিছুটা আগেই সন্দীপ চলে আসেন CGO Complex’র CBI কার্যালয়ে। সকাল সওয়া ৯টা নাগাদ সন্দীপের গাড়ি এসে থামে CGO Complex’র সামনে। হাতে একটা ফাইল নিয়ে তিনি সোজা ঢুকে যান ভিতরে। শোনা যাচ্ছে, লালবাজার থেকেও তলব পেয়েছেন সন্দীপ। এদিন অর্থাৎ বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। সম্ভবত সেই কারনেই এদিন নির্দিষ্ট সময়ের আগেই CGO Complex’র CBI কার্যালয়ে চলে গিয়েছেন সন্দীপ।
আরও পড়ুন, নাবালিকা বিয়ে রুখতে নিমন্ত্রণ রক্ষাকারীদের নামেও FIR, হইচই কেষ্ট’র জেলায়
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকে রোজই CGO Complex’র CBI কার্যালয়ে হাজিরা দিচ্ছেন সন্দীপ। কখনও ১০ ঘণ্টা, কখনও ১২-১৩ ঘণ্টা সিবিআই দফতরে থাকতে হচ্ছে সন্দীপকে। মঙ্গলবারও সাড়ে ১১ ঘণ্টা জেরা করা হয়েছে তাঁকে। দেখা গেল এদিন নির্ধারিত সময়ের অনেকটা আগেই CGO Complex’র CBI কার্যালয়ে পৌঁছেছেন আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। যদিও কেন এত তাড়াতাড়ি তিনি সিবিআই দফতরে এলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি। এমনকি, কেন তাঁকে বার বার তলব করা হচ্ছে, সে বিষয়েও মুখে কুলুপ এঁটেছেন সন্দীপ। অন্যদিকে কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আর জি করে চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জনসমক্ষে নির্যাতিতার নাম বলে দেন সন্দীপ। ওই কারণেই এদিন তাঁকে লালবাজারে তলব করা হয়েছে। যদিও তিনি কলকাতা পুলিশের ডাকে সাড়া দেবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল নানা মহলে। যদিও এদিন সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন যে তিনি লালবাজারে যাবেন কিনা। কিন্তু সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।