নিজস্ব প্রতিনিধি: সিনেমার কোনও ভৌগোলিক গণ্ডি নেই। তাই ভাষা-ধর্ম এমনকি পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকলেও সিনেমা মানুষকে একই পরিবারের সদস্য হিসাবে এক সুতোয় বেঁধে রাখে। আজ বুধবার (৪ ডিসেম্বর) আলিপুরের ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে ৩০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করে এমন উপলব্ধির কথাই শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে বিশ্ববরেণ্য পরিচালক তপন সিনহার ‘গল্প হলেও সত্যি’ ছবির মাধ্যমে উৎসবের পর্দা উঠল।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে তাঁর হাত ধরেই ব্যাপ্তি ঘটেছে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের। রাজনৈতিক মতবিরোধকে উপেক্ষা করে ভিন্ন মতের পথিক চলচ্চিত্র অভিনেতা-পরিচালককে কাছে টেনে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন উদ্বোধনী মঞ্চেও সেই দৃশ্য নজরে পড়ল। আজীবন নিজেকে বামপন্থী হিসাবে দাবি করা অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী থেকে শুরু করে পরিচালক সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়রা হাজির ছিলেন অনুষ্ঠানে।
উৎসবের উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিনেমার কোনও গণ্ডি নেই। আলাদা কোনও বিশ্ব নেই। নানা ভাষায় কথা বলতে পারি, নানা পোশাক পরতে পারি, নানা ধর্মানুসারী হতে পারি, কিন্তু আমরা সবাই এক। একটা পরিবারের মতো।’ বাংলা চলচ্চিত্র জগতকে যাঁরা সমৃদ্ধ করেছেন, বিশ্ব মঞ্চে উঁচু জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন সেই সত্যজিত রায়, তপন সিনহা, ঋত্বিক ঘটক, উত্তম কুমার-সৌমিত্র চট্টপাধ্যায়দের কথাও উল্লেখ করেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভাব অনুভব করছেন বলেও জানান।
বাংলার শিল্পী, পরিচালক, কলাকুশলীরা যে বলিউড কিংবা হলিউডের শিল্পীদের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়, তা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টলিউডে (টালিগঞ্জ পাড়ায়) যারা কাজ করেন, তাঁরা হৃদয় দিয়ে কাজ করেন। অনেক প্রতিভাবান শিল্পী-পরিচালক রয়েছেন যাঁরা বলিউডকেও হার মানাতে পারেন। কিন্তু তাঁদের লবির জোর নেই দেখে মাতামাতি হয় না।’ চলতি চলচ্চিত্র উৎসবে আন্তর্জাতিক ছবির পাশাপাশি প্রচুর বাংলা ছবিও দেখানো হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।