নিজস্ব প্রতিনিধি: বদলে যাওয়া বাংলা ও নিজের জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের গল্প শোনাতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অক্সফোর্ডে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লন্ডন থেকে বাসে চেপে অক্সফোর্ডে পৌঁছন তিনি। তাও নির্ধারিত সময়ের ঘন্টাখানেক আগে। দীর্ঘ পথ ভ্রমণের ঝক্কি সামলাতে সামান্য বিশ্রাম নিচ্ছেন র্যান্ডল্ফ হোটেলে। বিশ্রাম শেষে পৌঁছে যাবেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলার প্রশাসনিক প্রধানের জীবনের গল্প শুনতে ইতিমধ্যেই প্রচুর বাঙালি ও অবাঙালি গবেষক-পড়ুয়া জড়ো হয়েছেন। মমতার ভাষণ শোনার জন্য নাম নথিভুক্ত করার ব্যাপারে এতটাই অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছিল যে তড়িঘড়ি নথিবদ্ধকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিতে হয়েছে আয়োজকদের।
এদিন লন্ডন থেকে অক্সফোর্ডে পৌঁছে হোটেলে ঢোকার মুখে লবিতে রাখা গ্র্যান্ড পিয়ানো দেখেই থমকে দাঁড়ান মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গী ভারতীয় গবেষককে জিজ্ঞাসা করেই পিয়ানোর রিডে আঙুল ছোঁয়ালেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। বাজালেন ‘উই শ্যাল ওভারকাম’ ‘পুরানো সেই দিনের কথা’, ‘প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে’। আর মমতার সেই পিয়ানো বাজানোর মুন্সিয়ানার সাক্ষী থাকলেন তাঁর সফরসঙ্গী ও হোটেলের কর্মী-আধিকারিকরা। অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে ‘সামাজিক উন্নয়ন: বালিকা, শিশু এবং মহিলা ক্ষমতায়ণ’ নিয়ে বক্তৃতা দেবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বক্তৃতার পরে হবে গল্পগুজব। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠান হবে ১ ঘণ্টার। মূল অনুষ্ঠানের আগে অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠক সারবেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন মাইলফলক ঘুরে দেখার পাশাপাশি দেখবেন সেখানকার গ্রন্থাগারও।
সূত্রের খবর, ভাষণে ‘কন্যাশ্রী’, ‘রূপশ্রী’, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কীভাবে তৃণমূল কংগ্রেস জমানায় গত ১৪ বছরে বাংলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উপকৃত হয়েছেন, তাদের দুঃখের বারোমাস্যার অবসান ঘটেছে সেই গল্প বলবেন। অক্সফোর্ডের অনুষ্ঠান শেষে ফের লন্ডনে ফিরবেন মুক্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন।