নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের ধর্মতলার শহিদ সমাবেশ নিয়ে শুক্রবার একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের পাশাপাশি সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের বিরোধিতা করে ডিভিশন বেঞ্চে যেতে পারে রাজ্য সরকারও।
জ্যোতি বসুর জমানায় ভোট লুট রুখতে সচিত্র পরিচয়পত্র চালু সহ একাধিক দাবিতে মহাকরণ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা বর্তমান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই অভিযানে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের উপরে ‘হিংস্র হায়েনার’ মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল কলকাতা পুলিশ। এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৩ যুব কংগ্রেস কর্মী। বাংলায় গণতন্ত্র ফেরাতে বুকের রক্ত ঢেলে দেওয়া কর্মীদের স্মরণ করতে প্রতি বছরই ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের শহিদ দিবসের সমাবেশের আগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে বেশ কয়েকজন।
ওই মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবারই ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়ার কথা জানান বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। শুধু তাই নয়, শহিদ সমাবেশ নিয়ে খানিকটা তির্যক পর্যবেক্ষণ মন্তব্য করেছিলেন। এদিন ২১ জুলাই তৃণমূলের কর্মসূচির দিনে শহরে যান নিয়ন্ত্রণের কথা বলে পুলিশকে একাধিক নির্দেশ দেন বিচারপতি। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, ওই দিন সকাল আটটা পর্যন্ত মিছিল করা যাবে। সকাল ৯টার মধ্যে মিছিল যেখানে থাকবে, সেখানেই রাশ টানতে হবে। সকাল নয়টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শহরে কোনও যানজট যেন না হয়। কলকাতা হাইকোর্ট যাওয়ার রাস্তা, মধ্য কলকাতা এবং তার আশপাশের ৫ কিলোমিটার এলাকায় কোনও যানজট যাতে না-হয়, তাও নিশ্চিত করতে বলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ওই নির্দেশে খুশি নয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁরা মনে করছেন, ওই নির্দেশ সুষ্ঠভাবে সভা করার পরিপন্থী। কেননা, দূর-দূরান্ত থেকে যারা আসবেন তাদের সবার পক্ষে সকাল ছযটা থেকে সাতটার মধ্যে শিয়ালদা-হাওড়া পৌঁছনো সম্ভব নয়। আবার ১১টার পর মিছিল শুরু করলে সভা শেষ করতে পাঁচটা হয়ে যাবে। অনেকের পক্ষে বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়। অতীতে বিজেপির বিভিন্ন সভা বা মিছিলের ক্ষেত্রে বিচারপতিও তীর্থঙ্কর ঘোষ যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাও তুলে ধরা হবে ডিভিশন বেঞ্চের সামনে।