নিজস্ব প্রতিনিধি: নথিপত্রের সমস্যার জন্যই তিনি পেনশন(Pension) এবং অবসরকালীন প্রাপ্য(Retirement Benefits) পাবেন না। এমনটাই জানানো হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে অবসর নেওয়া ক্যান্সার আক্রান্ত স্কুল শিক্ষিকা(Cancer Patient Retired School Teacher) আরতিরাণী বিশ্বাসকে। সেই কথা তাঁকে লিখিত ভাবে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ(North 24-Paraganas District Primary School Council)। সেই চিঠিকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের(Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন আরতীরাণী। প্রাথমিক ভাবে সুবিচারও পেলেন। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে যে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে আরতিরাণীকে তাঁর বকেয়া প্রাপ্য দিয়ে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, ক্যানসারে আক্রান্ত ওই প্রাক্তন শিক্ষিকা যাতে নিজের চিকিৎসার খরচ চালাতে পারেন তার জন্য উত্তর ২৪ পরগনার জেলা স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক)-কে প্রভিশনাল পেনশন চালু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা(Justice Amrita Sinha)।
আরও পড়ুন, পুজোর মুখে স্বাস্থ্য প্রকল্পে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বাড়তি সুবিধা প্রদান
জানা গিয়েছে, আরতিরাণী বাংলাদেশে স্কুল এবং কলেজের লেখাপড়া শেষ করে এ দেশে আসেন। ১৯৮৪ সালে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পান। ১৯৯৮ সালে তিনি রাজারহাটের একটি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষিকা হিসেবে কাজ যোগ দেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে অবসর নেন। সেই হিসাবে তাঁর অবসরের পরে পরেই পেনশন চালু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় আরতীরানী যোগাযোগ করেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সঙ্গে। সেই সূত্রেই সংসদ তাঁকে জানিয়েছিল, নথিপত্রের সমস্যার জন্য তিনি পেনশন এবং অবসরকালীন প্রাপ্য পাবেন না। সংসদের সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন আরতীরাণী। তাঁর হয়ে মামলা লড়ার জন্য দাঁড়ান আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত এবং শিঞ্জিনী চক্রবর্তী। তাঁরা শুনানিকালে আদালতে প্রশ্ন তোলেন, আরতীরাণীর আড়াই দশকের চাকরির সময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলেনি সরকার। অথচ, অবসর গ্রহণের পরে পেনশন দিতে গিয়ে নথিপত্র যাচাইয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সেই কথা শুনে বিস্মিত হন বিচারপতিও।
আরও পড়ুন, কন্যাশ্রী-রূপশ্রী ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বাংলার সমাজ ব্যবস্থায়, স্বীকৃতি UNICEF’র
শুনানি চলাকালীন সময়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের আইনজীবী ভাস্করপ্রসাদ বৈশ্যের দাবি ছিল, মামলাকারী বাংলাদেশি নাগরিক। শিক্ষাগত নথি যাচাই না করে প্রাপ্য দেওয়া যাবে না। সেই দাবির জেরে আরতীরাণীর আইনজীবীরা পাল্টা সাওয়াল করে বলেন, এত বছর চাকরির পরে কী ভাবে এক জন ক্যানসার আক্রান্ত প্রাক্তন শিক্ষিকার প্রাপ্য আটকানো যায়? সব শুনে বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, মামলাকারী এত বছর ধরে চাকরি করার সময়ে কর্তৃপক্ষ কী করছিলেন? নথি যাচাই না করেই চাকরি দেওয়া হয়েছে, তা মেনে নেওয়া কার্যত অসম্ভব। চাকরি শেষ হওয়ার পরে নথি যাচাইয়ের কোনও অর্থ নেই। আরতিরাণীর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের আচরণ বেআইনি এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তারপরেই তিনি নির্দেশ দেন, ৯০ দিনের মধ্যে আরতিরাণীকে বকেয়া প্রাপ্য দিয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে ওই প্রাক্তন শিক্ষিকা যাতে নিজের চিকিৎসার খরচ চালাতে পারেন তার জন্য দ্রুত প্রভিশনাল পেনশন চালু করতে হবে।